ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের সেমিনারে নতুন প্রজন্মের সাফল্যের স্বীকৃতি

(উপরে বাঁ থেকে নিচে)গিয়াস আহমেদ, শাহ শহীদুল হক, সাঈদ তারেক হাসান খান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, সরওয়ার আহমেদ ও সীমা কারেনটায়া

ঠিকানা রিপোর্ট : ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষাই আলো, জ্ঞানই শক্তি’-এই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত সেমিনারে। আর এই সেমিনারে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পেলেন সাফল্যের স্বীকৃতি। গত ১১ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘জ্ঞানই শক্তি।’
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুল প্রবাসী জুইশ সেন্টারে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং প্রাইভেট টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম কালেকটিভ একাডেমির ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। নিউইয়র্কের স্টাইভেসান্ট, ব্রুকলিন টেক এবং ব্রঙ্কস সাইন্সের রেকর্ড ফলাফলের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে যেসকল মেধাবী ছাত্রছাত্রী, তাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা হয় সেমিনারে।


আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইট্স ডেভলপমেন্ট ইউএসএ-এর সভাপতি শাহ শহীদুল হক সাঈদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জেবিবিএ’র সভাপতি ও মূলধারার রাজনৈতিক গিয়াস আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম, অ্যাসেম্বলি মেম্বার জেনিফার রাজকুমারের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স পরিচালক সীমা কারেনটায়া, মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রতিনিধি ফেবয় এন্ডারসন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জেবিবিএর সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, স্মার্ট টেক-এর কর্ণধার ও সিইও সরওয়ার আহমেদ, আমেরিকা নিউইয়র্ক বাংলাদেশি লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আহসান হাবিব, কালেকটিভ একাডেমির পরিচালক শিরীন আকতার, ফিড বাংলাদেশের পরিচালক আব্দুল মুকিত চৌধুরী।
অনুষ্ঠাতে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি শাহ শহীদুল হক সাঈদ অতিথি, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকসহ সকলের উদ্দেশে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশি আমেরিকান এবং নিউ ইমিগ্র্যান্টদের সেবায় নিয়োজিত। আমাদের সকল কর্মকাণ্ড ব্যতিক্রম। নিউইয়র্কের আগামী প্রজন্মের অ্যাম্বাসেডদের আমরা একত্রিত করেছি। এই জ্ঞানবান তরুণ, যুবক যুবতীরাই আমাদের ভবিষ্যত। তিনি মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়ায় তুলে ধরার মাধ্যমে বাঙালি সমাজ আরও উন্নতি লাভ করতে পারে। তিনি বলেন, আজকে আমার সামনে যারা

রযেছেন, তারা সবাই আকাশের উজ্জ্বল তারকা। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীই আমাদের গর্ব। আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই সকল মা-বাবাকে, সন্তানের ভবিষ্যত নির্ভর করে মা-বাবার নির্দেশনা, আদর আর স্নেহের ওপরে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে গিয়াস আহমেদ বলেন, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইট্স ডেভলপমেন্টের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসার দাবিদার। আজকের অনুষ্ঠান সত্যিই প্রশংসার দাবদীর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাটনি মঈন চৌধুরী বলেন, আজকের আলোচ্য বিষয় সত্যিই চমকপ্রদ। ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যত সাফল্য অর্জন করে দেশের কল্যাণে অর্থাৎ মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করবে এ প্রত্যাশা করি।


নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামসের কমিউনিটি বিষয়ক প্রতিনিধি ফেবয় এন্ডারসন বলেন, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি খুবই শক্তিশালী। মেয়র আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। জেনিফার রাজকুমারের প্রতিনিধি সীমা কারেনটায়া বলেন, শাহ শহীদুল হক আমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করছেন। আমরা এ মহৎ উদ্দেশ্য ও ছাত্র ছাত্রীদের অনুপ্রেরণামূলক সেমিনারে উপস্থিত হতে পেরে নিজকে ধন্য মনে করছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকব।
সেমিনারের শেষ পর্বে বিচারকমণ্ডলীর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অন্যান্য মেধাবী প্রায় ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্টের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ থেকে আগত নৃত্য শিল্পী ও বর্তমান ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটিতে অধ্যয়নরত আমিনা খাতুন।