ওরা বীরদের কলঙ্কিত করতে চেয়েছে

বর্ণবাদবিরোধীদের নিন্দায় ট্রাম্প

ঠিকানা ডেস্ক : বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন বিশ্বজুড়ে গতি পেলেও এটাকে ইতিবাচকভাবে নিতে এখনো নারাজ কট্টর জাতীয়বাদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা মার্কিন বীরদের সম্মানহানি করার চেষ্টা চালিয়েছে এবং ইতিহাস পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলতে চেয়েছে।
সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে মাউন্ট রাশমোর ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে পাথুরে পাহাড় খোদাই করে ইতিহাস বিখ্যাত চার মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখমণ্ডল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই ভাস্কর্যের সামনে গত ৩ জুলাই আয়োজিত এক জনসমাবেশে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি এই দিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি সাউথ ডাকোটার জনগণকেও সময় দেন তিনি।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ব্যাপারে সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘এ আন্দোলন মাউন্ট রাশমোরে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির (চার সাবেক প্রেসিডেন্ট) উত্তরাধিকারকে আক্রমণ করেছে।’ চলমান আন্দোলনকে ‘নির্দয়’ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমাদের ইতিহাস একেবারে মুছে ফেলতে চেয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথা আর বর্ণবাদের অবসান ঘোষণা করা হলেও এর জের রয়ে গেছে আজও। কট্টর শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা এখনো দেশটিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নানাভাবে বর্ণবাদের নির্মম শিকার হচ্ছে অশ্বেতাঙ্গরা। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশের নির্যাতন এবং পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু তেমনই এক নির্মম ঘটনার উদাহরণ।
তবে ফ্লয়েডের মৃত্যু কেবল একটা উদাহরণ হয়ে থাকেনি। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র হয়ে ওঠে পুলিশের বর্বরতা আর বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন। শিগগির ওই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। আর শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিক্ষোভ দমনে সেনা লেলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেও পিছপা হননি তিনি, যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁর ওই হুমকি বাস্তবে প্রয়োগ হয়নি। তা-ই বলে বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করা বন্ধ রাখেননি ট্রাম্প। গত ৩ জুলাই জনসভায় তিনি বলেন, ‘বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িত কেউ কেউ আমাদের বীরপুরুষদের মর্যাদাহানি ঘটাতে চেয়েছিল, আমাদের মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল আর আমাদের সন্তানদের ভুল আদর্শ শিক্ষা দিতে চেয়েছিল।’
বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপ বলছে, সামনের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের চেয়ে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।