কক্সবাজার উপকূলে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ

কক্সবাজার : বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে এখন ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। এই সময়ে এটি অভাবনীয় বলে মনে করছেন অভিজ্ঞজনেরা। মণ মণ ইলিশে শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারিঘাট এখন সরগরম। এতে করে বোট মালিক ও মৎসজীবীরা দারুণ খুশি। তবে কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ পৌঁছাতে নানা ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত ১৬ মার্চ কয়েকজন বোট মালিক ও জেলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দৈনিক গড়ে ৫০ টন ইলিশ মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। শীতের শেষে এসে এই ধরনের ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা গত এক যুগে এই প্রথম বলে জানান মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আহরিত ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে গিয়ে চরমভাবে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।

গত ১৬ মার্চ সকালে শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাগর থেকে ইলিশের ঝাঁপি নিয়ে ঘাটে ফিরছে সারি সারি ট্রলার। মাছ আনলোড করে নতুন করে রসদ নিয়ে পুনরায় বঙ্গোপসাগরে রওনা দিচ্ছে।

এ দিকে কক্সবাজার শহরের প্রধান প্রধান বাজারগুলো ঘুরে জানা গেছে, কেজিতে তিনটি বা ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি সর্বেচ্চ ৩০০ টাকা। ৪০০ গ্রামের চেয়ে বড় ইলিশের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আকার ভেদে ইলিশের দাম আরো বেশি।

তবে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ পড়ার ঘটনায় জেলে বহদ্দাররা এবার লাভের আশায় বুক বাঁধলেও পুলিশি হয়রানির কারণে মৎস্য ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসায় করতে পারছেন না বলে জানান কক্সবাজার ফিশারিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মঈনউদ্দিন আহমদ জানান, সরকারের পরিকল্পিত কর্মসূচির কারণেই এ মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত কয়েক বছর ধরে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারিসহ জাটকা ধরার বিরুদ্ধে অভিযানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের এসব কর্মসূচি কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সাগর ও নদী মোহনায় নির্বিঘেœ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।