কবিরহাটে গণধর্ষণ: আলামত মেলেনি ডাক্তারি পরীক্ষায়!

নোয়াখালী : কবিরহাটে অস্ত্রের মুখে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. মো. খলিল উল্যা গত ২৪ জানুয়ারি দুপুরে জানিয়েছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তার মা ও গৃহবধূর সদ্য কারামুক্ত স্বামী। হাসপাতাল থেকে এ মেডিকেল রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়।

এ দিকে গণধর্ষণের এ ঘটনায় করা মামলায় জামাল উদ্দিন নামে আরও এক আসামিকে ২৪ জানুয়ারি সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নোয়াখালী ডিবি কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। জামাল কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে। দুপুরে তাকে নোয়াখালী ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, জামালকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই নারী ও তার স্বামী ২৪ জানুয়ারি দুপুরে বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত না পাওয়ার বিষয়টি অবিশ্বাস্য। এ ছাড়াও ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি জাকির হোসেন জহিরসহ চারজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। অথচ মেডিকেল বোর্ড ধর্ষণের কোনো আলামত পায়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত¡াবধায় ডা. মো. খলিল উল্যা বলেন, মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওই নারী ধর্ষণের শিকার হননি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকে না। ওই গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন গত ১৮ জানুয়ারি রাতে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে। মেডিকেল বোর্ড তার শরীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ধর্ষণের নমুনা সংগ্রহ করেছেন গত ২০ জানুয়ারি দুপুরে। নমুনা সংগ্রহ করে তা নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল সরকারি মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

ডিবির ওসি আবুল খায়ের বলেন, ওই মেডিকেল রিপোর্ট তিনি এখনও হাতে পাননি। এতে ধর্ষণের আলামত পাওয়া না গেলেও সমস্যা নেই। গ্রেফতারকৃতদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে এরই মধ্যে ঢাকায় সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।