কব্জি দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে আরজিনা

নারী ডেস্ক : যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন, মনোবল ঠিক থাকলেই সব কিছুই করা সম্ভব। তারই প্রমাণ রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর মৃধাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আজিজুল হকের শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে আরজিনা খাতুন (১৬)। তার দুই হাত আছে, হাতের আঙুলও আছে, নেই শুধু আঙ্গুলের কাজ করার শক্তি। তাই বলে কি তার লেখাপড়া বন্ধ থাকবে?
আরজিনা খাতুন কঠিন মনোবল নিয়েই উপজেলার লালবাড়ি দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়। মাদরাসায় সে দু’হাতের কব্জি দিয়ে লিখে পিইসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতার সঙ্গে পাস করে। আরজিনা ওই মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় উপজেলার ওসমানপুর বাহরুল উলুম ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের ২০৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সে বেঞ্চে বসে দু’হাতের কব্জির সাহায্যে কলম ধরে গণিত প্রশ্নপত্রের উত্তর খাতায় লিখছে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল হক কক্ষ পরিদর্শনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তার লেখা দেখছেন। ইউএনও বলেন, ‘অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই আরজিনা দ্রুতগতিতে প্রশ্নপত্রের উত্তর খাতায় লিখছে। আমি তার সব সময় খোঁজখবর রাখছি। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তাকে ৩০ মিনিট সময় অতিরিক্ত দেয়া হয়েছে।’
পরীক্ষা শেষে কথা হয় আরজিনা খাতুনের সঙ্গে। সে বলে, ‘দোয়া করবেন, আমি যেন লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়ে গরিব দুস্থ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি।’
আরজিনার বাবা আজিজুল হক বলেন, ‘আমার আরো তিন মেয়ে আছে। কিন্তু আরজিনা জন্মগতভাবে দু’হাতের আঙুলে কোনো শক্তি নেই। তার লেখাপড়ার প্রতি খুব ঝোঁক। কিন্তু আমি গবিব মানুষ। জানি না তাকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত লেখাপড়ার খরচ বহন করতে পারবো কি না।’
লালবাড়ি দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসার সুপার মো. আবু মুছা বলেন, ‘আরজিনার লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগী। সে কোনো পরীক্ষায় ফেল করেনি। বিদ্যালয়ে আসে নিয়মিত। তার বাবা গরিব হওয়ায় আমরা তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করে আসছি।’
উপজেলার ওসমানপুর বাহরুল উলুম ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে একমাত্র প্রতিবন্ধী হিসেবে আরজিনায় দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে। ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি তার খোঁজখবর রাখছি। আশা করছি সে ভালো ফলাফল করবে।’