কয়লাই নেই- অথচ উত্তর জনপদে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ

ঠিকানা ডেস্ক :  দেশীয় কয়লা উত্তোলনে সরকারি সিদ্ধান্ত না থাকার পরও উত্তরবঙ্গে নতুন বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত বছর মাঝামাঝি সময়ে সরকারকে অন্ধকারে রেখেই জিসিএম রিসোর্সেস চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাওয়ার চায়নার সঙ্গে বিনিয়োগ এবং নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে চুক্তি করে।

এবার দেখা গেল সরকারি মালিকানাধীন আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন উত্তরবঙ্গ সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা জরিপ চালিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, উত্তরবঙ্গে লোভল্টেজের সমস্যা নিরসনে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বড় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জ্বালানির সংস্থান সব থেকে বড় বাধা। দেশের উত্তরবঙ্গে আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। ফলে দেশীয় কয়লার সংস্থান করতে হবে। কিন্তু এখন বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দুটি কেন্দ্র চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালালে জ্বালানি সঙ্কটে এখন অন্যটি বন্ধ রাখতে হয়। এখানে নতুন কয়লাখনি না হলে কেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব নয়।

কয়লা তোলা নিয়ে গত ১০ বছর থেকে সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে নতুন খনি করার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ২০১২ সালের পর কয়লা খনি করার বিষয়ে নতুন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি পেট্রোবাংলাকে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে কয়লা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

যেহেতু উত্তরবঙ্গ সমুদ্রতট থেকে অনেক দূরে কাজেই উত্তরবঙ্গে কয়লা পরিবহন করার জন্য রেললাইন প্রয়োজন। কিন্তু জাহাজ থেকে আবার রেলে পরিবহন করে সেই কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অর্থনৈতিকভাবে উপযোগী মনে করা হয় না। কাজেই সেখানে আমদানি করা কয়লায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা কঠিন হবে।

জ্বালানিই যেখানে নেই সেখানে কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা কেন এ সম্পর্কে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, জিসিএম যেটা করেছে সেটা অন্যায়। সরকার এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে না জানিয়ে তারা কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করেছে। তারা একই সঙ্গে বলছে, সেখানে তারা ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চায়। সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে এর একটি কেন্দ্রও নেই। তারপরও কিভাবে তারা চুক্তি করল তা নিয়ে কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পিডিবির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা বিষয়টি জানেই না। কেবল শেয়ার বাজার থেকে ফায়দা হাসিলের জন্য এ ধরনের চুক্তি বলে অনেকে মনে করেন।