করোনাজয়ী হাফিজ রেহমান: ১০৮ দিন পর বাড়ি ফিরলেন!

ঠিকানা রিপোর্ট : হাফিজ রেহমান। ৪৩ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন কোভিড-১৯ ভাইরাসে। আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে ভর্তি করা হয় লং আইল্যান্ড জুইশ মেডিকেল সেন্টারে। সেখানে করোনাভাইরাসের সাথে লড়াই চালিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে সারিয়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। ১০৮ দিন পর সেই চেষ্টা সফল হয়। লড়াইয়ে জয়ী হন হাফিজ। করোনাজয়ী হয়ে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন। এতে তার পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। বাবাকে ফিরে পেয়ে তার মেয়েরা ভীষণ খুশি। মেয়েদের অনুপ্রেরণাতেই বাড়ি ফিরতে পেরেছেন বলে মনে করেন হাফিজ। সেই সঙ্গে এটাও মনে করছেন, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক সেবার কারণেই তিনি এই মহামারিকে পরাস্ত করতে পেরেছেন। তাই হাফিজ রেহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, নিউইয়র্কের বাসিন্দা হাফিজ রেহমান কোভিড-১৯ লড়াইয়ে জয়ী হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। লং আইল্যান্ড জুইশ মেডিকেল সেন্টার থেকে ৪৩ বছর বয়সী হাফিজ ১৭ জুলাই শুক্রবার কোভিড-১৯-এর সাথে ১০৮ দিনের অগ্নিপরীক্ষার পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও কর্মচারীরা তাকে চিয়ার্স ও করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, নিউ হাইড পার্কের লং আইল্যান্ড জুইশ মেডিকেল সেন্টারে তিন মাসেরও বেশি থাকার সময় তিনবার ভেন্টিলেটারে রাখা হয় হাফিজকে। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য তাকে বাড়ি যাওয়ার আগে ইউনিয়েডেলে পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। নিউইয়র্ক সিডব্লিউ নেটওয়ার্কের সহযোগী ডব্লিউপিআইএক্স রিপোর্ট।
এখন হাফিজের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে পরিবারের সাথে সময় কাটানো। ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়া ও সোডা পান করা। হাফিজ রেহমানের ১০৮ দিনের হাসপাতালে ভর্তি থাকা লং আইল্যান্ড জুইশ মেডিকেল সেন্টারের (এলআইজে) জন্য একটি রেকর্ড ছিল।
হাফিজের ভাবি প্রতিমা রেহমান তার দেবরের বেঁচে থাকার চাবিকাঠি হিসেবে চিকিৎসক ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেলের সবার কৃতিত্ব বলে মনে করেন। এ জন্য তারা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তিনি এটাও বলেছেন, আসলে আমি জানি না তাদের ছাড়া কী ঘটতে পারত। তিনি বলেন, তার সুস্থ হওয়ার কারণে আমরা এখন খুব উচ্ছ¡সিত। আমরা প্রত্যেক ডাক্তার ও নার্সকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। প্রতিমা রেহমান আরও বলেন, হাফিজ রেহমানের বাড়িতে ফিরে আসার আকাক্সক্ষা তার দুই মেয়ের প্রাথমিক অনুপ্রেরণা ছিল।