করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে দোলাচলে সরকার

রাজবংশী রায় : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষ এখন উন্মুখভাবে তাকিয়ে আছে ভ্যাকসিনের দিকে। সবারই ধারণা ভ্যাকসিন এলেই করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আর পুরো পৃথিবী আবার স্বাভাবিক গতি পাবে। তবে সেদিন আর বেশি দূরে নেই। বাংলাদেশের মানুষতো আরো এক ধাপ এগিয়ে। তাদের ধারণা এই সামনের মাসেই ভ্যাকসিন এসে যাবে, মহামারি তখন বন্দী হয়ে পড়বে। আর করোনাভাইরাসও থাকবে না।
কিন্তু আসলেই বাংলাদেশ কবে পাবে ভ্যাকসিন? কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। সরকারও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।
সবার আগে রাশিয়া ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ওই ভ্যাকসিন নিয়ে বিতর্ক চলছে। আরও কয়েকটি দেশের উৎপাদিত ভ্যাকসিন ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী রাষ্ট্রের বাইরে আরও কয়েকটি দেশ এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছে। চীনের তৈরি ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবুও চীনের তৈরি ভ্যাকসিন বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে বলে দেশটি আশ্বস্ত করেছে। আবার প্রতিবেশী ভারতও ভ্যাকসিনের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ সফরে এসে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। এই দুই দেশের বাইরে বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের বিষয়ে আরও তিনটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভ্যাকসিন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার দোলাচলে রয়েছে। এ কারণে কোনো দেশের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাধারণত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পায়। কিন্তু ট্রায়ালে অংশ না নেওয়ায় শুরুতে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।
ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করছেন অনেকে। তাদের অভিমত, চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ। চীনের ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আকস্মিক সফরে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারতসহ কয়েকটি দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এ অবস্থায় চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হয়তো ওই দেশগুলো ভালোভাবে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই সরকার চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ রাখতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের দোলাচলে থাকার কিছু নেই। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয় নিয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। জুন-জুলাই মাস থেকেই ভ্যাকসিন নিয়ে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয়ে এই সংস্থা থেকে আমাদের আশ্বস্তও করা হয়েছে। কারণ যে দেশই ভ্যাকসিন আনবে তাদেরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ গ্লোবাল ভ্যাকসিন ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) অন্যতম সদস্যও। সুতরাং ট্রায়াল না করলেও টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।
জাহিদ মালেক আরও বলেন, ভারত ও চীন ভ্যাকসিনের বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সম্ভাব্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তারাও আশ্বস্ত করেছে। ভ্যাকসিন-সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য যে ভ্যাকসিনটি ভালো হবে, সেটিই আনা হবে। এ নিয়ে দোলাচলে থাকার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি।
একগুচ্ছ পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকার একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ভ্যাকসিন পেতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত ও চীনের সঙ্গে সরকার আলোচনা শুরু করেছে। এর বাইরে কয়েকটি দেশি ওষুধ কোম্পানিও ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হলে কাঁচামাল বা ফর্মুলা এনে দেশি কোম্পানিগুলো উৎপাদনে যেতে পারে। এটি হলে দেশি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ভ্যাকসিন উৎপাদন করে দ্রুততম সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সরকারও এই প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ডাকা হয়েছে। শিগগির ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ভ্যাকসিনের সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সরকারের অন্য একটি সূত্র জানায়, গ্যাভি কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাবে। গ্যাভির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশও এ সুবিধা পাবে। তবে গ্যাভির বিনামূল্যের ভ্যাকসিনের বাইরেও সরকার এটি ক্রয়ের চিন্তাভাবনা করছে। এজন্য করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতের অনেক কেনাকাটা কাটছাঁট করে ভ্যাকসিনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে করোনা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় নেওয়া দুই প্রকল্পের কার্যক্রমও কাটছাঁট করা হচ্ছে। এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ কোটি ডলারের ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই ৯ কোটি ডলারের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৪ কোটি, এডিবি ২ কোটি ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ৩ কোটি ডলার দেবে। প্রতিটি ভ্যাকসিনের মূল্য পড়বে ৪০ ডলার। এতে ৯ কোটি ডলারে ২২ লাখ ৫০ হাজার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক-নার্সসহ ১০ লাখ ফ্রন্টলাইনার কর্মী ও সাড়ে ১২ লাখ বয়স্ক নাগরিককে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে জটিলতা হতে পারে : ট্রায়ালে অংশগ্রহণ না করায় আগেভাগে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে দুটি ওষুধ কোম্পানির ভ্যাকসিন তৈরি করার সক্ষমতা আছে। তবে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা কারো নেই। এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করা হলেও তা প্রাপ্তি সহজ হবে না। কারণ ওই ভ্যাকসিন উৎপাদনে অনেক দেশ অর্থ বিনিয়োগ করে রেখেছে এবং ওইসব দেশে ভ্যাকসিনটির ট্রায়ালও হচ্ছে। সুতরাং ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ওইসব দেশই প্রাধান্য পাবে। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সফল হলে প্রথমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া হবে। এরপর ভারতকে দেওয়া হবে। ভারত নিজেদের চাহিদা পূরণ করে অন্য দেশকে দেবে। সুতরাং ভারতে কোটি কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে। ফলে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন পাওয়া খুব কঠিন হবে। চীনের তৈরি ভ্যাকসিন প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ হতো। মূল্যও কম ছিল। কিন্তু সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেও কী কারণে ওই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হলো না তা অজানা।
ডা. নজরুল ইসলাম আরো বলেন, বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো, গ্যাভি কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাবে। এ হিসাবে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এই ভ্যাকসিন প্রতি বছর দিতে হলে প্রথম বছর ওই ২০ শতাংশ বিনামূল্যের সুবিধা পাওয়া যাবে। পরবর্তী বছরগুলোতে অর্থ ব্যয় করে ভ্যাকসিন কিনতে হবে। তখন এই অর্থের সংস্থান নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বিএমআরসির অনুমোদন দেওয়ার পর আইসিডিডিআরবি ট্রায়াল করার অনুমতি পেলে, তাতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। কারণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ট্রায়ালে অংশ নেওয়া দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এর সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু নেই। পাকিস্তান তো চীন ও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছে। তাদের তো সমস্যা হয়নি। তাহলে আমাদের সমস্যা কোথায়? জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি ভ্যাকসিন ট্রায়ালে যাচ্ছে। সম্ভবত আমাদের দেশে একটি মহল চাইছে না চীনা ভ্যাকসিন কম দামে দেশে আসুক। ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া চীনের ভ্যাকসিনের ১০ কোটি ডোজ তৈরি শুরু করেছে। এটা তো বৈজ্ঞানিক ব্যাপার, রাজনীতির ব্যাপার নয়। একটা ভ্যাকসিন বৈজ্ঞানিকভাবে সব পদ্ধতি মেনেই করা হয়। এই ভ্যাকসিন নিয়ে কেউ কেউ বাণিজ্য করতে চায় বলেই হয়তো ট্রায়াল করা হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।
জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো সহিদুল্লা বলেন, ভ্যাকসিন আন্তর্জাতিক বাজারে এলে কীভাবে প্রথমেই বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কী পরিমাণ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন এবং তা সংগ্রহে কত ব্যয় হবে, কী পরিমাণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণাপত্র প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান বা দেশ ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে আছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ তা পেতে পারে। সাধারণত প্রথম ব্যবহারযোগ্য ভ্যাকসিন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমেই বিতরণ করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মাথাপিছু আয়ের নিচের দেশগুলোকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিনামূল্যে নির্দিষ্টসংখ্যক ভ্যাকসিন দিয়ে থাকে এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। দ্রুত ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা সে দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তির প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয় অগ্রিম অর্থও বরাদ্দ দেওয়া উচিত, যাতে ভ্যাকসনটি দ্রুত পাওয়া যায়। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুসারে, বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ২০২টি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ হচ্ছে। তবে ডব্লিউএইচও বলছে, ২৭টি ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া প্রথম ভ্যাকসিন উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ওই ভ্যাকসিন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এমনকি দেশটির অভ্যন্তরেও নানা বিতর্ক রয়েছে। এর বাইরে ভ্যাকসিন তৈরির কাজে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাজ্য, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। তিন দেশের ভ্যাকসিনই পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তৃতীয় পর্যায়ে আছে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সময় সংক্ষেপ করে নিজ নিজ ভ্যাকসিন বাজারে আনতে চাইছে। এর মধ্যেই চীনের ভ্যাকসিনের পেটেন্ট করার অনুমোদন দিয়েছে বেইজিং। ডব্লিউএইচও ভ্যাকসিন উদ্ভাবক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো শুরুতে বিভিন্ন দেশের ৩ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা এবং আগামী মার্চে তারা ২০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনটি দিতে চায়। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। চলতি আগস্টের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট গ্যাভি, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ও ভারতের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্সের করোনার ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়ার পর সেগুলোর ১০ কোটি ডোজ তৈরি করে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ৯২টি দেশে সরবরাহ করা হবে। এই সরবরাহের দায়িত্বে থাকবে সেরাম ইনস্টিটিউট। সে জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিল দেবে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের দাম পড়বে সর্বোচ্চ ৩ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমানে ২৫৫ টাকা।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তার কিছু নেই। ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে এগিয়ে থাকা প্রতিটি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারাও আমাদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সুতরাং যে ভ্যাকসিনটি অধিক কার্যকর হবে, আমরা সেটিই গ্রহণ করব। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখভাল করছেন। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা হবে না।