করোনায় ৪ লাখেরও বেশি আমেরিকান মারা যাবে

ঠিকানা রিপোর্ট : আমেরিকায় থামছেই না প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ। সংক্রমণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এদিকে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়েও দেশটিতে চলছে তোড়জোড়। ইতিমধ্যে আমেরিকায় ৬৫ লাখেরও বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত এবং প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার লোক মারা গেছেন। এ অবস্থায় সর্বদা করোনা আতঙ্কে থাকা আমেরিকানদের জন্য এল আরো দুঃসংবাদ। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ আমেরিকায় করোনাভাইরাসে মারা যাবে ৩ লাখ ১৫ হাজার লোক। শুধু তা-ই নয়, সিএনএনের মেডিকেল করেসপন্ডেন্ট ড. সঞ্চয় গুপ্ত বলেছেন, আমেরিকায় ১ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনায় মারা যাবে ৪ লাখেরও বেশি লোক।
ড. গুপ্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনস ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের নতুন মডেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পরবর্তী ৪ মাসে আমেরিকায় আরও ২ লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি লোক মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ড. গুপ্তের মতে, করোনা মোকাবিলায় আমেরিকার নেওয়া পদক্ষেপ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সিএনএনের নিউ ডে-কে ড. গুপ্ত বলেন, তিনি বিষয়টি সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ছোঁয়াচে রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসির নজরে এনেছেন, তবে তেমন ইতিবাচক সাড়া পাননি।
ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক : ইউএস সার্জন জেনারেল ড. জেরম অ্যাডামস ৭ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ১ নভেম্বর থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য স্টেটগুলোর এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অপারেশন র‌্যাপ স্পিডের প্রধান উপদেষ্টা ড. মনচেফ স্লাওই বলেছেন, কার্যকারিতার সঠিক প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার আগে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য তার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হলে প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগ করবেন। আবার সাবেক ইউএস সার্জন জেনারেল ড. ভিভেক মার্থি সিএনএনের ওলফ ব্লিটজারকে বলেছেন, কোভিড-১৯ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উচিত হবে সায়েন্স গাইডের সিদ্ধান্ত মেনে চলা। অন্যদিকে ৬ সেপ্টেম্বর সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ইনফেকশন ডিজিজের পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, আমেরিকানদের জন্য চলতি সপ্তাহে দুটি সুখবর রয়েছে। একটি হচ্ছে আমেরিকানরা হেলথ ম্যান্ডেট মেনে চলছেন এবং অক্টোবরের শেষ নাগাদ ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হতে পারে।
ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের এমন বিতর্কে সাধারণ আমেরিকানরা চরম হতাশ। তারা যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে এই মহামারির কবল থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন।