কর্ণফুলী তীরে উচ্ছেদ অভিযান কবে?

চট্টগ্রাম  : কর্ণফুলী নদীতীরে অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ২৫০ একর ভূমি উদ্ধার না করেই থমকে আছে উচ্ছেদ কার্যক্রম। গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন টানা পাঁচ দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১০ একর ভূমি উদ্ধার করলেও পরে তা থেমে যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রম মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর র্র্কতৃপক্ষের তৈরি মাস্টারপ্ল্যান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুসারে শিগগির উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর র্র্কতৃপক্ষের চিফ হাইড্রোফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান বলেন, মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় এতদিন কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ কার্যক্রমে গতি ছিল না। বন্দর র্র্কতৃপক্ষের খসড়া মাস্টারপ্ল্যান ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। তবে মাস্টারপ্ল্যানে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন সংস্থাকে আলাদাভাবে দায়িত্ব বণ্টনের কিছু বিষয় উল্লেখ রয়েছে। বন্দর র্র্কতৃপক্ষ কর্ণফুলী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদ অভিযান থমকে যায়নি; ঈদের কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল। গত ২২ জুলাই পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে প্রায় ১৫ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্ণফুলীর তীরবর্তী অবৈধ দখলে থাকা ২৫০ একর ভূমি উদ্ধারে শিগগির জোরেশোরে অভিযান শুরু হবে।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা পাঁচ দিন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্ণফুলীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান চলে। প্রথম দফার অভিযানে নগরের সদরঘাট জেটি এলাকা থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত কর্ণফুলীর উত্তর পাড়ের ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ১০ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সময় আরও ১৮ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকে ‘অদৃশ্য ও প্রভাবশালীদের চাপের’ কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন।

প্রথম দফার উচ্ছেদ অভিযান শেষে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী নগরের পতেঙ্গা থেকে মোহরা পর্যন্ত জরিপ কার্যক্রম চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। জরিপে সদরঘাটের লাইটারেজ জেটি থেকে মোহরা পর্যন্ত এবং পতেঙ্গার লালদিয়ার চর, বিজয়নগর, বোটক্লাব থেকে ১৫ নম্বর জেটি পর্যন্ত প্রায় ২৫০ একর ভূমি বেদখলে থাকার চিত্র উঠে আসে। এতে জানা যায়, কর্ণফুলীর তীর দখল করে পাকা, আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নামে-বেনামে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতি করছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী কোল্ড স্টোরেজ, জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির শতাধিক দোকান ও আড়ত, বাস্তুহারা সমবায় সমিতির শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট এবং শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি রয়েছে। এমনকি চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখে জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড টানিয়ে অবৈধভাবে নতুনভাবে চারটি একতলা ভবন ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।

উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছে। সেই অনুসারে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে। সেটি বাস্তবায়ন করবে বন্দর র্র্কতৃপক্ষ। তারা চাইলে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।