কর্মকর্তাদের ভুলে মেয়েদের কান্না


স্পোর্টস রিপোর্ট : টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ফুটবলার দুবারের বেশি জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে পারবে না। যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই খেলোয়াড় তো আছেনই দলকেও বহিস্কার করা হবে। এমনটিই ঘটেছে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে। ঠাকুরগাঁও জেলা নারী দলের চার ফুটবলারÑ চন্দনা রায়, রঞ্জনা রায়, ঈশিতা ও মমতাজ বেগম এই টুর্নামেন্টে আগে দুবার খেলেছিলেন। সেমিফাইনালে ঠাকুরগাঁওয়ের কাছে হেরে যায় ময়মনসিংহ। হারের পরই প্রমাণসহ ঠাকুরগাঁয়ের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জানায় ময়মনসিংহ। এরপর তদন্ত করে ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তারা নিয়মভাঙার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওকে বাদ দিয়ে ফাইনালে রংপুরের প্রতিপক্ষ হিসেবে ময়মনসিংহকে বেছে নেয়। চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর জেলা। গত ১৯ জুলাই কমলাপুর স্টেডিয়ামে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা। তারা এমন সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি। যে কয়েকজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বাদ দিয়ে খেলার আকুতি জানিয়েছিল ময়মনসিংহ; কিন্তু টুর্নামেন্টের বাইলজের দোহাই দিয়ে বাফুফে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকে। শেষ পর্যন্ত মাঠে এসেও লাভ হয়নি তাদের। ফুটবলাঙ্গনে এটা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু দায়টা কার? অনেকেরই মতে, দায়টা ঠাকুরগাঁও কর্মকর্তাদেরই। কারণ বাইলজ জানা সত্ত্বেও বেশি বয়সী ফুটবলারকে কেন মাঠে নামিয়েছিল তারা।
ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে হট্টগোলের পর বাফুফে কর্তারা বাইলজের বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তাদের কথামতো তিন মাস আগেই বাইলজ সম্পর্কে দলগুলোকে অবহিত করা হয়েছিল। এমনকি ফাইনাল রাউন্ডেও বারবার দলগুলোকে বাইলজের বিষয়টি সম্পর্কে বলেছিলেন ফেডারেশনের কর্তারা। আর সেমিফাইনালে ময়মনসিংহের অভিযোগের পর ঠাকুরগাঁওকে ফাইনালের দিন সকাল ১০টায় চিঠি দিয়েছিল বাফুফে। কিন্তু সেই চিঠি গ্রহণ না করে মাঠে ঢুকে পড়ে ঠাকুরগাঁও দল। যে কারণে ঠাকুরগাঁও জেলা সম্পর্কে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাফুফের এক কর্মকর্তা। শিরোপার জন্য সেমিফাইনালে বেশি বয়সী ফুটবলার মাঠে নামান ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মকর্তারা। তাদের কারণেই মরা বাড়ির কান্না করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা।