কলাপাড়ায় খাল দখল করে মাছ চাষ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ও ধানখালী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি করমজাতলীর খাল স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে মাছ চাষ করছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ এই খালে নামতে পারছে না।

খালটি পূর্ব দিকের রাবনাবাদ নদ থেকে উঠে এসে আবার পশ্চিম দিক দিয়ে গিয়ে রাবনাবাদ নদেই মিশেছে। খালটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। অন্তত ১৫টি অংশে ভাসান জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, এই খালের একেবারে পূর্ব দিকের অংশে জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন রেজা গাজী, রাতুল গাজীসহ কয়েকজন। এরপর পর্যায়ক্রমে রুবেল তালুকদার, প্রিন্স হাওলাদার, আসমান ঘরামী, সোহাগ ঘরামী, বারিউল খান, রিয়াজ আকন, বেল্লাল হাওলাদার, সেন্টু প্যাদা, রফিক হাওলাদার, মহিউদ্দিন সিকদার, আমিরুল সিকদার, মামুন সিকদার, জাহাঙ্গীর প্যাদা, মোশারফ প্যাদা, জহিরুল হাওলাদার, সানু হাওলাদার, মহসিন হাওলাদার, খবির মোল্লা, মজনু মোল্লা, বাচ্চু মোল্লাসহ আরও অনেকে মাছ চাষ করেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী-সমর্থক। কোনো অংশের সঙ্গে ২০-২৫, কোনো অংশের সঙ্গে ৩০-৩৫ জন করে ভাগীদার রয়েছেন।

কাইয়ুম তালুকদার নামের একজন বলেন, ‘সরকারি খাল আটকাইয়া মাছ চাষ করার কারণে সাধারণ মানুষ পানিও ছুঁইতে পারে না। আমি এর প্রতিবাদ করায় হেইসব লোকজন আইয়া আমার লগে ঝগড়াও করেছে। আমারে গালিগালাজ করেছে। সরকারি খালডা উদ্ধার করা হউক, এইডাই আমরা চাই।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০০ থেকে ২৫০ ফুট দূরে দূরে বেড়া দেওয়া হয়েছে। খালের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে তাতে জাল দিয়ে এসব বেড়া দেওয়া হয়েছে। এসব জালে কোনো ফাঁস নেই। এ কারণে সহজে পানি প্রবাহিত হতে পারে না।

জানতে চাইলে যুবলীগের কর্মী রেজা গাজী বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। এলাকার বেকার ছেলেরা মিলে খাল পরিষ্কার করে তাতে মাছ চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে।’ রাতুল গাজী, আইয়ুব হাওলাদার, মোশারফ হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন খালের পূর্ব দিকের অংশে জাল দিয়ে আটকে মাছ চাষ করেছেন বলে তিনি জানান।
মোশারফ আওয়ামী লীগের কর্মী। তাঁর কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

যুবলীগের আরেক কর্মী মামুন সিকদার বলেন, ‘আমরা এর আগে এখানে মাছ চাষ করিনি। অনেকের দেখাদেখি খালের এপার-ওপারের কয়েকজন মিলে মাছ চাষ করেছি। তবে সরকারি খালে যে এভাবে মাছ চাষ করা যায় না, তা আগে বুঝিনি।’
অন্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার বলেন, ‘মাছ চাষ করার কারণে এলাকার গরিব মানুষজনের মাছ-পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আমার কাছে সাধারণ মানুষজন অভিযোগ করেছেন। আমি দখলদারদের খাল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বলেছি। কিন্তু কেউ শোনেনি।’
ধানখালী ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ গাজী বলেন, কিছু লোক মিলেমিশে খালে মাছ চাষ করছেন। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।

কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি খাল দখল করে কেউ মাছ চাষ করতে পারবে না। আমি খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। সরকারি খাল দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে।’