কাঁচের মসজিদ

যশোর : দূর থেকে দেখে মনে হয় হীরার পাহাড়। কাছে গেলে বোঝা যায় হীরার পাহাড় নয়, এটি আসলে মসজিদ। তাও কাচের। চার দিকে আলো ছড়াচ্ছে এই মসজিদ। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটিই দেশের একমাত্র কাচের মসজিদ।

যশোর শহরের শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকার এই মসজিদের নাম ‘নাজির শংকরপুর কাচের মসজিদ’। একই এলাকার দুই ভাই আইয়ুব হোসেন ও সোহেল হোসেনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় মসজিদটি নির্মিত হচ্ছে। তিন বছর আগে শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ। পুরো কাজ শেষ হওয়ার আগেই তা দর্শনীয় স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাচের মসজিদটির আলোয় চার দিক ঝলমল করছে। পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে মৌসুমি বিভিন্ন রঙের ফুল মসজিদের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদ দর্শন শেষে কয়েকজন মসজিদের সামনে বসার স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

পুরো মসজিদই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মসজিদের গম্বুজ তিনটি। স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে গম্বুজের ওপরে ‘আল্লাহু’ লেখা আছে। চীন থেকে আমদানি করা চার হাজার বর্গফুট মার্কারি কাচ ব্যবহার করা হয়েছে মসজিদে। পাশেই আছে আকবর আলী ক্যাডেট ও হাফিজিয়া মাদরাসা। এখানে ২০০ ছাত্র পড়ালেখা করে।

মসজিদটির উদ্যোক্তা আইয়ুব হোসেন ও ইমাম-মোয়াজ্জিন জানান, তিন শতক জমির ওপর মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। আয়তন দুই হাজার ২০০ বর্গফুট। তবে এখনো সব কাজ শেষ হয়নি। চারতলা এই মসজিদে এক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। লাশ রাখার ঘরেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আছে। একসঙ্গে তিন থেকে চারটি লাশ রাখা যায়।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব মসজিদটির নকশা করেছেন। তিনি বলেন, ‘কলাম স্ট্রাকচারের এই মসজিদটি সম্পূর্ণ কাচ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ছয় মিলিমিটার মোটা কাচ ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কারি কাচ ব্যবহার করার কারণে দিন-রাত সব সময় মসজিদটি জ্বলজ্বল করে।’

আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ব্যতিক্রমধর্মী কাচের এই মসজিদটি নির্মাণ করেছি। এখন অনেকেই মসজিদটি দেখতে আসে।’
কাচের মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মসজিদটি খুবই সুন্দর। দেশে এমন মসজিদ আমি অন্য কোথাও দেখিনি। এলাকার এই মসজিদের জন্য আমি গর্ব করি।’