কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে: অনুভবে নজরুল এক মনোজ্ঞ আয়োজন

ছন্দা বিনতে সুলতান : কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি ছিলেন সাম্যের কবি, মানবতার কবি, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি। তারই স্মরণে গত ৭ অক্টোবর জ্যাকসন হাইটসের পিএস-৬৯ স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো ‘অনুভবে নজরুল’ অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল যৌথভাবে শতদল ও নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স কমিটি। অনুষ্ঠানটির প্রধান আকর্ষণ ছিল কবি কাজী নজরুল ইসলামের দৌহিত্রী নজরুল গবেষক, আবৃত্তিকার সঙ্গীত শিল্পী খিলখিল কাজী এবং বিখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সালাউদ্দীন আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও লেখক ড. নুরুল নবী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নজরুল গবেষক ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ফোবানা এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ঠিক বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শতদলের প্রেসিডেন্ট অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক কবির কিরণ, খিলখিল কাজী, সালাহউদ্দীন আহমেদ, মুত্তালিব বিশ্বাস, মনজুর আহমেদ, ড. গুলশান আরা কাজী, বেলাল কাজী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় খিলখিল কাজী ও সালেহউদ্দীন আহমেদকে এবং এই প্রজন্মের শিল্পী নায়লা কবির ও তমাল হোসেনকে। এরপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান পর্ব। এই পর্ব পরিচালনায় ছিলেন কবির কিরণ ও সাদিয়া খন্দকার।

শুরুতেই রুম ঝুম রুম ঝুম গানটির সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নায়লা কবির। আরো নৃত্য পরিবেশন করে নেহা রহমান ও ফারিয়া রহমান, নজরুলের বিখ্যাত নারী কবিতাটি আবৃত্তি করেন কবি ও আবৃত্তিকার ছন্দা বিনতে সুলতান। আরো আবৃত্তি করেন বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি সায়েদা নাজমা পারভিন পাপড়ি। অনুষ্ঠানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি ছোট্ট সেমিনারের আয়োজন ছিল। সেমিনারটি সঞ্চালনায় ছিলেন কবির কিরণ, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ ও মুত্তালিব বিশ্বাস, ড. গুলশান আরা কাজী, ড. বেলাল কাজী, জিয়াউদ্দীন আহমেদ, দলিলুর রহমান, কবি এবিএম সালেহ উদ্দীন, টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমেদ, ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান।

বক্তারা কবি নজরুলের কর্মময় জীবনের বিচিত্র দিকে তুলে ধরেন এবং তার বাণী সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কৌশিক আহমেদ। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কবির দৌহিত্রী খিলখিল কাজী। তিনি তার সুরেলা কণ্ঠের যাদুবলে দর্শকদের মোহিত করে রেখেছিলেন। তিনি চারটি গান দর্শক শ্রোতাদের গেয়ে শোনান। তার শূন্য এ বুকে ফিরে আয় পাখি মোর গান দর্শকরা আপ্লুত হয়ে শুনেছেন এবং গুণ গুণ করে তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়েছে। এরপর সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সালেহ উদ্দীন আহমেদ। তিনি তার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন যা দর্শক শ্রোতারা প্রাণভরে উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তারা হলেন- প্রিয়া ইসলাম, তমাল হোসেন, অজন্তা সিদ্দীকী, প্লামী দাস সোপ প্রমুখ। গিটারে নজরুল সঙ্গীত বাজিয়ে শোনান নাসিমা আক্তার। এছাড়া ছিল হৃদয়গ্রাহী বৃন্দ আবৃত্তি। সঞ্চালনায় ছিলেন মনজুর কাদের, আবৃত্তি করেন নতুন প্রজন্মের নাহরীন ইসলাম ও মুন জেবীন খান। এছাড়া ক্ষুদে আবৃত্তিকার ফাসির কবির কাব্যর বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তিটি দর্শকদের হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছে। সবকিছু মিলিয়ে অন্যভাবে নজরুলের এই আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং উপভোগ্য।
অনুষ্ঠানে খিলখিল কাজী, সালাউদ্দিন আহমেদ, ড. জিয়াউদ্দীন আহম্মদ, কৌশিক আহমেদ, দেবল গুপ্তা ও মুত্তালিব বিশ্বাসকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।