কাদা-ছোড়াছুড়িতে ট্রাম্পের উদাহরণ হলেন বাংলাদেশিরা

নিউজার্সিতে কাউন্সিলম্যান নির্বাচন

ঠিকানা রিপোর্ট : আমেরিকায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত স্টেটগুলোর মধ্যে নিউজার্সি অন্যতম। নিউইয়র্কের কাছে হওয়ার কারণে অনেকেই বেছে নিয়েছেন নিউজার্সিকে। অনেক বাংলাদেশি নিউজার্সিতে থাকলেও নিয়মিত অফিস করেন নিউইয়র্কে। বিশেষ করে, নিউজার্সির প্যাটারসন হচ্ছে বাংলাদেশিদের প্রিয় জায়গা। এই প্যাটারসনকে কেন্দ্র করেই নিউজার্সিতে বাংলাদেশিদের উত্থান। প্যাটারসনে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জনসংখ্যার দিকে থেকেও বাংলাদেশির সংখ্যা কম নয়। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীও রয়েছে। এ কারণে মূলধারায় বাংলাদেশিদের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা জেগে উঠেছে। ২০১২ সালে নিউজার্সির মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। এই সালেই ফার্স্ট কমিশনার নির্বাচিত হন আলাউর খন্দকার এবং কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন আকতারুজ্জামান। আকতারুজ্জামান নির্বাচিত হওয়ার পর তার কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। ২০১৪ সালে ম্যানহাটন স্ট্রিটের নামকরণ ফরমান আলী করার পরপরই বিভক্তি চ‚ড়ান্ত আকার ধারণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের নির্বাচনে আকতারুজ্জামানের বিপরীতে নির্বাচনে দাঁড়ান বাংলাদেশি আমেরিকান শাহীন খালিক। শাহীন খালিক নির্বাচিত হওয়ার পর মামলা দায়ের করেন আকতারুজ্জামান। সেই মামলা চলে প্রায় এক বছর। এক বছর পর আদালত শাহীন খালিককে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। ২০২০ সালের নির্বাচনেও শাহীন খালিক ও আকতারুজ্জামান কাউন্সিলম্যান পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১২ মে। করোনাভাইরাসের কারণে এবার ভোটাররা ডাকযোগে ভোট প্রদান করেন। ভোট গণনা করতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যায়। শাহিন খালিক ৮ ভোট বেশি পান আকতারুজ্জামানের চেয়ে। আকতারুজ্জামান কোর্টের শরণাপন্ন হন। কোর্ট ভোট পুনরায় হাতে গণনার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় গণনায় শাহিন খালিক ৩ ভোটে এগিয়ে থাকেন। আবারো আকতারুজ্জামান কোর্টে যান। এভাবে চারবার গণনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত একটি ভোটে দুজনের পক্ষে চিহ্ন থাকলেও ব্যালটে লেখা ছিল আকতারুজ্জমানের নাম। যে কারণে কোর্ট ভোট আকতারুজ্জামানকে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল হয় টাই। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন এই নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটেছে। প্রচারণার সময়ও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং পুলিশ ডাকাডাকির ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের পরও শাহিন খালিকের বড় ভাই সেলিম খালেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য আকতারুজ্জামানের লোকজন স্টেটকে দেয়। তার ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলাটি বিচারাধীন। কিন্তু এরই মধ্যে সেলিম খালিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়। কোনো কোনো মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হয় তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। অন্যদিকে সেলিম খালিক ঠিকানাকে বলেন, ‘নির্বাচনের নিয়ম হচ্ছে একজন তিনটি ভোট জমা দিতে পারবেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে যে আমি একজন ড্রাইভারের বাসা থেকে ভোট নিয়ে এসেছি। আসলে আমি ওই ড্রাইভারের কাছে ফ্লায়ার দিয়ে এসেছি। তার কাছ থেকে কোনো ভোট আমি আনিনি। কোর্টেই আমি তা প্রমাণ করব। কিন্তু তার আগে আমার বিরুদ্ধে কেন মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে? মামলা নিষ্পত্তির আগেই কেন আমাকে অপরাধী বলা হচ্ছে? তা ছাড়া আরো বলা হচ্ছে, আমি ব্যারিয়ার ছাড়া নাকি ওই ভোট জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনে কাগজ দেখলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। গত ২২ জুলাই মামলার তারিখ ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।’ ঠিকানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে আমার মামলাটি নিষ্পত্তি হোক। তারপর যারা মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
আলাউর আলম ও সৈয়দ জুবায়ের আলী বলেন, নিউজার্সিতে তারা সুন্দর একটি ফ্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন। কাউন্সিলম্যান শাহিন খালিক কমিউনিটির উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। নিউজার্সিতে একটি স্ট্রিটের নাম বাংলাদেশ বøুবোর্ড করেন। নিউজার্সির স্কুলগুলোতে হালাল খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া তিনি কমিউনিটির উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে নিউজার্সিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে লজ্জায় মুখ দেখানোরও অবস্থা নেই। আকতারুজ্জামানের লোকজন এসব মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তারা বলেন, কমিউনিটির স্বার্থে এসব মিথ্যাচার বন্ধ করা উচিত। তারা বলেন, নিউজার্সির এ ঘটনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ডাকযোগে ভোট হলে কারচুপির আশঙ্কা থাকে। এর উত্তম উদাহরণ আমাদের সামনে নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান নির্বাচন।