কানাডায় মদ-গাঁজা খাচ্ছেন সেই সৌদি তরুণী

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এনে বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছেন সৌদি আরবের তরুণী রাহাফ মোহাম্মেদ আল-কুনুন। পরিবার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপে কানাডায় আশ্রয় নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণী। কিন্তু কানাডায় গিয়েই গত এক সপ্তাহে পুরোই বদলে গিয়েছেন তিনি।
পৌঁছানোর পরই নামটা পর্যন্ত কেটে-ছেঁটে ফেলেছেন তিনি। মজেছেন অপার বিলাসিতায়। মত্ত সময় কাটাচ্ছেন মদ-গাঁজা আর নিষিদ্ধ সব কর্মকাÐে। কানাডায় নেমেই রাহাফ তার ‘নতুন জীবনযাত্রার’ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তাতে দেখা যাচ্ছে, মদ, শূকরের মাংস আর গাঁজা হয়ে উঠেছে তার জীবনসঙ্গী। ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। চলছে তীব্র আলোচনা-বিতর্ক। গত ১৬ জানুয়ারি ডেইলি মেইল ও নিউজ হাবের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কানাডায় রাহাফের উচ্ছৃঙ্খল জীবনের প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রতি পরিবারের বিরুদ্ধে অতি শাসনের অভিযোগ এনে বাড়ি থেকে পালিয়ে ব্যাংককে আশ্রয় নেন রাহাফ। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা কুয়েতে ছিলেন। রাহাফ কুয়েতে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন। পরিবারে ফিরলে তাকে মেরে ফেলা হবে।
তিনি টুইটারে এ নিয়ে একের পর এক পোস্ট দিলে তা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে পড়ে। পরিবারের কাছে ফেরত না পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে আশ্রয় পাওয়ার আকুতি জানান তিনি। পরে কানাডা তাকে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়।
এরপর গত ১৯ জানুয়ারি টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে ‘সাহসী কানাডীয়’ হিসেবে বরণ করে নেন দেশটির কর্মকর্তারা। এরপরই শুরু হয় রাহাফের বিলাসী ও উচ্ছৃঙ্খল জীবন। পশ্চিমা ধাঁচের হাঁটু সমান পোশাক ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার শরীরে এখন হাঁটু পর্যন্ত উলের পোশাক।
গত ১৫ জানুয়ারি স্ন্যাপচ্যাটে কিছু ছবি শেয়ার করেছেন রাহাফ। এতে তিনি জীবনে প্রথম ‘কানাডীয় স্টাইলে’ বেকন তথা শূকরের মাংস খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই ছবির সঙ্গেই তিনি মদ এবং সিগারেটের টুকরার ছবি দিয়ে সেগুলো দারুণ উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন। কানাডায় সাধারণত এভাবে গাঁজা ভরে সিগারেট খাওয়া হয়।
সম্প্রতি দেশটি গাঁজাকে বৈধতা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশের নিজস্ব রীতি মেনে ১৮/১৯ বছর বয়স থেকে সবাই গাঁজা সেবন করতে পারেন। সিগারেট খাওয়া ও মদের ছবি শেয়ার করেছেন রাহাফ। একটি ছবিতে ক্যাপশন দিয়েছেন, মাইনাস ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বসে ‘বাষ্প’ ওড়াচ্ছি।
পরিবারের বিরুদ্ধে নানা নির্যাতন আর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত কানাডায় আশ্রয় পেয়েছে ওই তরুণী। ইতোমধ্যে তার নতুন জীবনের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। আর এই এক সপ্তাহ জীবনযাপনের চিত্রই পাওয়া গেছে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবি ও অভিজ্ঞতায়।