কিমের দেশে আজব ভোট

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন যেমন একজন রহস্যময় নেতা, তার দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনও তেমনি চমকপ্রদ। দেশটির ৬৮৭ সদস্যের পার্লামেন্ট সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেমবিøর (এসপিএ) নির্বাচনে প্রতি আসনে ব্যালটে একজনই প্রার্থী থাকেন। ভোটারদের শুধু সুযোগ হয় তাকে সমর্থন করে ব্যালটটি বাক্সে ফেলার। ভোটদানে বাদ যায় না ১৭ বছরের বেশি বয়সী কোনো নাগরিকই। ভোট কাস্ট হয় শতভাগ। গত ১০ মার্চ কিমের আমলে দ্বিতীয়বার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ফল প্রকাশ হবে কয়েকদিন পর।
উত্তর কোরিয়ায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়ে থাকে। ১৭ বছর বয়সে উন্নীত হলে নাগরিকরা ভোট দেওয়ার জন্য উপযুক্ত হন। উত্তর কোরিয়ায় ভোট দেওয়া নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, এই নির্বাচনে ভোটের হার প্রায় শতভাগ। এ নিয়ে একটা কৌতুক প্রচলিত আছে যে, ভোটের দিন উত্তর কোরিয়ায় কারও মারা যাওয়া নিষিদ্ধ, কেউ অসুস্থও হবে না।
এই প্রবাদ প্রমাণ করে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে শতকরা ৯৯৯৭ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। সেটি ছিল কিমের আমলের প্রথম ভোট। বিশ্লেষকরা বলেন, দেশটিতে ভোটদানের মানে হচ্ছে, জনগণ নেতার প্রতি অনুগত সেটিই প্রমাণ দেওয়া। ভোটের দিন হাসিমুখে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ব্যালট নিয়ে শুধু বাক্সে ফেলতে হবে। প্রার্থী পছন্দ বা অপছন্দের কোনো বালাই নেই। পার্লামেন্টের ৬৮৭টি আসনের প্রতিটিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর একজন করে প্রার্থী চ‚ড়ান্ত করা হয়।
উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ ফিয়োদর তারতেয়স্কি বলেন, ব্যালটে একটি নামই লেখা থাকে। আপনি শুধু ব্যালটটি নিয়ে বাক্সে ফেলবেন। আপনি গোপনে বা প্রকাশ্যে ভোট দিতে পারবেন। তবে আড়ালে ভোট দিলে সবাই আপনাকে সন্দেহ করবে যে, নেতার প্রতি আপনি অনুগত কি না। তারতেয়স্কি আরও বলেন, টেকনিক্যালি কেউ আরও একটি কাজ করতে পারেন। তাহলো প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ব্যালটে ক্রসচিহ্ন দেওয়া। তবে এ কাজ করলে সিক্রেট পুলিশ পিছু লাগবে। তাতে পদে পদে বিপদ। তাই এটা জেনে-বুঝে কেউ করে না। ভোট দেওয়ার পর পোলিং স্টেশনের বাইরে গিয়ে আনন্দ উদযাপনও করতে হয় সবার সঙ্গে। এর অর্থ, আপনি দেশটির বিজ্ঞ নেতাকে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট। দেশ পরিচালনায় উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্টের কোনো ধরনের ক্ষমতা নেই বললেই চলে। তবু এটিই দেশটির একমাত্র আইন পরিষদ। এ বিষয়ে তারতেয়স্কি জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মনে করে, দেশটির অ্যাসেমবিøর খুব কম ক্ষমতা রয়েছে। তবে সত্যিকার অর্থে তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের ব্যবধানে সংবিধান পরিবর্তন ও সব নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী কিমকে ক্ষমতাচ্যুত করার নিয়ম লেখা থাকলেও তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।
অনেকেরই ধারণা, উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক দল একটি। তবে মজার ব্যাপার হলো, উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক দল তিনটি। কিম জং উনের ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং চন্দোয়িস্ট চং পার্টি। তবে এ দুটি দল ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গেই মিলেমিশে কাজ করে।
নির্দিষ্ট দিনক্ষণ না থাকলেও নির্বাচনের কিছুদিন পরই ফল ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচনে প্রার্থী যখন একজন, ফল ঘোষণার আদৌ প্রয়োজন পড়ে কি না, তার জবাব চাওয়াই বাহুল্য।