কেন অতিরিক্ত সচিবের অতিচিন্তা?

মোস্তফা কামাল: অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ১০ জন সৎ কর্মকর্তা দিলেই তিনি পুরো সিস্টেমকে দুর্নীতিমুক্ত করে ফেলবেন-
এই ঘোষণায় আহলাদিত অনেকে। নিজের পদ-পদবি, ক্ষমতা না বাড়ালে অতিরিক্ত সচিবের পদে থেকেই তিন মাসে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে ফেলতে পারবেন? না কি তাকে বাড়তি ক্ষমতা দিয়ে উচ্চপদে বসাতে হবে? এই ধরনের ব্যবস্থা চাইলেই পাওয়া যায়?
এসব প্রশ্নের মাঝেই তিনি ওএসডি। কাছের লোকদের প্রশ্ন কোন অপরাধে ওএসডি করা হলো অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলনকে? এটা কোন পরিণতি? তিরস্কার না পুরস্কার? কাছের এই লোকরা বুঝতে চান না, তাকে কে বলেছে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার ছক আঁকতে? এটা কি তার চাকরিবিধিতে পড়ে? সরকারি কর্মকর্তাদের এই ধরনের ঘোষণাকে কতোটা প্রশ্রয় দেয়া যায়? অন্য অতিরিক্ত সচিবরাও বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে ১০ জন করে সৎ অফিসার চেয়ে বসলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে?
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে যোগ দিয়ে তিনি রীতিমতো বিপ্লব করলেন। এ বিপ্লবের মাঝেই তাকে সরিয়ে রেলে দেওয়া হয় সেখান থেকে। মাস কয়েক আগে রেলেওয়েতে গিয়েও চমক দেখিয়েছেন। রেলের সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কিছু উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। রেলের টিকিট চোরাকারবারীদের ভাত মেরে প্রচলন করেছিলেন নাম, ভোটার আইডি নম্বর সম্বলিত অনলাইন টিকিটের। একজন সরকারি কর্মকর্তার পদায়নপত্রে বলা হয়, জনস্বার্থে আপনাকে পদায়ন করা হলো। তিনি দুর্নীতিমুক্ত থেকে জনস্বার্থে কাজ করবেন- এটাই তো তার শপথ। এখানে ঢোল পেটানোর কী আছে?
তিনি দুই যুগ চাকরি করেছেন, সহকারী কমিশনার থেকে অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন। নিশ্চয়ই আইন কানুনের সঙ্গে বাস্তবতাও তিনি জানেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে তাকে খেদানো হলো রেল মন্ত্রণালয়ে। সেটা কি তার অজানা? এ ছাড়া তিনি কথায় কথায় রব, আল্লাহ, পরওয়ারদিগার এসব বলেন কেন? এক পোস্টে সুদ আখ্যা দিয়ে তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের লভ্যাংশ প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছেন। তার ফর্মুলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলার ছাপ রয়েছে। তিনি এবং ১০ জন এবং ৩ মাস মানে ৯০ দিন। তবে, সবার উপরে প্রধানমন্ত্রীকে রেখেছেন। এ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বাস্তবতা আর আবেগের ফারাক রেখেছেন?
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন