কেলীর দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বর্ডার ওয়াল নির্মাণের দাবি অযৌক্তিক

ঠিকানা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শ্রমিক-কর্মচারির ২৫% বা প্রায় ৮ লাখ খেটে-খাওয়া আমেরিকান আধাবেতনে কিংবা বিনা বেতনে প্রায় ১৫ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রত্যাশিত বর্ডার ওয়াল (সীমান্ত প্রাচির) নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ না দিলে দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউন এবং হাউজকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের জন্য ইমার্জেন্সী বা জরুরি অবস্থা ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন।
এমনতর বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মেরিন কর্পস এবং ৬ দিন আগে হোয়াইট হাউজ্য ত্যাগকারী চীফ অব স্টাফ কেলী লস এঞ্জেলেস টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ওয়াল নির্মাণের ধারণাকে বাস্তবতা বিবর্জিত পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেলী বলেন, ট্রাম্প ওয়াল নির্মাণ সম্পর্কে নানা সময় নানা কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট এখনও বলছেন ওয়াল (দেয়াল), আবার মাঝে মাঝে বলেন, ব্যারিয়ার ( বাধা) কিংবা ফেন্সিং (বেড়া) বা স্টীল স্ল্যাটস। কিন্তু গোড়ার দিকে সর্বসাধারণের অভিমতের ভিত্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সলিড কংক্রিট ওয়াল নির্মাণের ধারণাকে বাদ দিয়েছিলেম।
২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দায়িত্ব নির্বাহকারী কেলী আও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে মেক্সিকো- সাউদার্ন সীমান্ত নিয়ে তৎকালে তিনি কাস্টম অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এজেন্টগণের সাথে আলোচনা করেছিলেন। কেলী বলেন, এজেন্টগণ তাদের বলেছিলেন- কোন কোন স্থানে আমাদেও ফিজিক্যাল (ভৈাতিক) ব্যারিয়ার (বাধা), প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষ এবং আরও লোকজনের প্রয়োজন।
এদিকে হোয়াইট হাউজ অ্যাডভাইজার কেলীয়ানে কনওয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে ফিজিক্যাল অবকাঠামোর চেয়ে ওয়াল শব্দটির উপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ওয়াল শব্দটির প্রতি গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে বর্ডার পেট্রোল এবং ইমিগ্রেশন কাস্টম এনফোর্সমেন্টগণের কি চাহিদা তার প্রতি অসম্মান করা হচ্ছে। কেলী বলেন, আমার বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ইমিগ্রেশন সমস্যা। আর বেআইনী অভিবাসীদের সকল কিন্তু খুব খারাপ লোক নয়। কেলী আরও বলেন, সাবেক এটর্নী জেনারেল জেফ সেসনস মে মাসে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নামক যে ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছিলেন তা ছিল অমানবিক। সন্তান-সন্ততিদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়াকে কোনক্রমেই অনুমোদন দেয়া যায়না। উল্লেখ্য, নানা বিষয়কে কেন্দ্র কওে ৮ ডিসেম্বর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ৩০ ডিসেম্বর তিনি হোয়াইট হাউজ ত্যাগ করেন।