কেলেঙ্কারিতে বিপর্যস্ত ট্রুডোর সরকার

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : অকস্মাৎ এক কেলেঙ্কারিতে টলে উঠেছে কানাডায় জাস্টিন ট্রুডোর সরকার। ক্রমেই ঘনীভূত হওয়া সংকটে জড়িয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। তার সরকারেরই সাবেক বিচার মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগ করেছেন, তার কাজে বাগড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন অনেকেই ট্রুডোকে পদত্যাগ করতে বলছেন।

খবরে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগ করেছেন যে, দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি একটি কোম্পানির সঙ্গে আদালতের বাইরে বোঝাপড়ার জন্য তাকে চাপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যখন এতে সম্মত হননি তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে সরিয়ে দেওয়ার। অবশেষে সেটাই করা হয়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই কেলেঙ্কারির কারণে অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ট্রুডো হেরে যেতে পারেন। তিনি বলেন, ট্রুডো ও তার কর্মকর্তারা মাসের পর মাস তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে, ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে কর্মসংস্থান হারাবে অনেক কানাডিয়ান। অপর দিকে দলও হারাবে গুরুত্বপূর্ণ ভোট।
জডি উইলসন রেরুল্ড নামে ওই সাবেক বিচার মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কানাডার আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে এই পদে আসীন হওয়া প্রথম ব্যক্তি। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার মন্ত্রী আলাদা পদাধিকারী হলেও, কানাডায় একই ব্যক্তি দুই দায়িত্ব পালন করেন। জডি উইলসন অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশে ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে রয়েছে গাজাসেবন ও স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করা। জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় তাকে বিচার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রবীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা অনেকের কাছেই তার পদাবনমন বলে মনে হয়েছিল। যেই কোম্পানিকে নিয়ে এত আলোচনা সেই এসএনসি লাভালিন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রকৌশলী ও নির্মাণ খাতের কোম্পানি। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লিবিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদেরকে এই কোম্পানি বিভিন্ন প্রকল্প বাগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফি ছিলেন ক্ষমতায়। এসএনসি লাভালিন এ নিয়ে বিচারের মুখোমুখির বদলে আদালতের বাইরে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে চায়। কোম্পানিটি বলছে, তারা জড়িত অনেককে সরিয়ে দিয়েছে ও নিজেদের কর্মপন্থা পরিবর্তন করেছে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, লিঙ্গ সমতা ও কানাডার আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিরোধ নিরসনের অঙ্গীকার করে ২০১৫ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন ট্রুডো। ২০১৯ সালের অক্টোবরে ফের নির্বাচনে লড়বেন তিনি।
তিনি ও তার কর্মকর্তারা যে কারণে এসএনসি লাভালিনের পক্ষালম্বন করে অ্যাটর্নি জেনারেলকে চাপ দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে অবশ্য দুর্নীতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ভোটের রাজনীতির একটা সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রুডো কোনো বেআইনি কিছু করেননি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা করতেই তিনি চাপ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেলকে। তবে তিনি বলেছেন, উইলসন যেভাবে পুরো ঘটনার রঙ দিয়েছেন, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। তার আরও দাবি, তার কর্মকর্তারা নিয়মনীতি মেনেই অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।