কোমায় থাকা তানজিমের বাবা-মা এখন যুক্তরাষ্ট্রে

তানজিম সিয়ামের মা-বাবা ও দুই ভাই (বাঁয়ে) এবং হাসপাতালের বেডে অচেতন তানজিম সিয়াম।

গ্রোসারি স্টোরে ডাকাতির সময় গুলিবিদ্ধ

ঠিকানা রিপোর্ট : বস্টনের এক দোকানে ডাকাতির সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি ছাত্র তানজিম সিয়াম এখনো বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২১ বছর বয়সী সিয়ামকে শেষ বারের মতো দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন সিয়ামের বাবা মোহাম্মদ শহীন, মা মনোয়ারা বেগম মনিসহ ২ ভাই। বস্টন থেকে নাহিদ নজরুল জানান, সিয়ামের বাবা, মা এবং ভাইরা গত ৩ আগস্ট এমিরাটর্স এয়ারলাইন্স যোগে বস্টনের লোসান এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন। সন্ধ্যায় বস্টন বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। সিয়ামের বাবা- মা তাদের সন্তানকে হাসপাতালে গিয়ে দেখে এসেছেন। জানা গেছে, সিয়ামের পরিবারবে ভিসা পেতে সাহার্য্য করেছে ফক্স নিউজ। বস্টন বিজনেস এসোসিয়েশনের পাশাপাশি তারাও অর্থ সাহার্য দিয়েছেন। ফক্স নিউউজের কারণে সিয়ামের পরিবারের ভিসা পেতে সহজ হয়েছে। তারা ঢাকা এম্বাসীতে যোগাযোগ করেছেন এবং সিনেটরের চিঠিও দিয়েছেন।

পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম জি গ্রসের সাথে সাক্ষাত করেন বোস্টন কনভেনিয়েন্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দল।

উল্লেখ্য, সিয়াম শিক্ষার্থী ভিসায় এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পড়াশোনা শুরুর আগে পরিবারকে সহায়তার উদ্দেশে চার মাস আগে বোস্টনের একটি দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। এম অ্যান্ড আর কনভেনিয়েন্স স্টোর নামে ওই দোকানে গত ১৪ জুলাই ডাকাতির সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তারপর থেকেই হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন তিনি।
দোকানের মালিক আবদুল মতিন বলেছেন, ‘নার্সরা আমাকে জানিয়েছেন ডাক্তাররা দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করছেন। তবে তার শরীর রক্ত ও ওষুধ নিতে না পারায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আবদুল মতিন এবং বোস্টন কনভেনিয়েন্স স্টোর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন মোরশেদ বাংলাদেশে তানজিম সিয়ামের মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মোরশেদ বলেন, আমরা তার পরিবারের ভিসার ব্যবস্থা করছি।
আবদুল মতিন জানান, শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পড়াশোনা শুরুর আগেই পরিবারকে সহায়তা করতে চেয়েছিলেন তানজিম সিয়াম। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমার কমিউনিটির একজনকে সহায়তা করা আমার দায়িত্ব। আর সেভাবেই আমার দোকানে কাজ শুরু করে।’
গত ১৪ জুলাইয়ের ওই ডাকাতির ঘটনার নিরাপত্তা ফুটেজ এখনো পুলিশ অবমুক্ত করেনি বলে জানান আবদুল মতিন। ডাকাতির আগে সিয়াম দুর্বৃত্তকে অর্থ, টি শার্ট ও সিগারেট দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তারপরও তাকে বেইসমেন্টে নিয়ে উপুড় করে মাথায় গুলি করা হয়। বোস্টন পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর বলা সব কথাই শুনেছিল সিয়াম কিন্তু তারপরও সেগুলো তাকে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
সিয়ামের ওপর হামলাকারীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস : বস্টন পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম জি গ্রস বলেছেন, কর্মরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ সিয়ামের হামলাকারীকে দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন থেকে কনভেনিয়ন্স স্টোরগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হবে। বাংলাদেশিসহ প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদানে বোস্টন পুলিশ বদ্ধপরিকর। তিনি সিয়ামের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন। বোস্টন কনভেনিয়েন্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ আশ্বাস দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন মোরশেদ, সাংবাদিক তাপস বড়ুয়া, ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন প্রমুখ।