ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত

ঠিকানা ডেস্ক : পুলিশের গুলিতে আবারও নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সাক্রামেন্টে। গত ১৮ মার্চ রাতে পুলিশ স্টেফোন ক্লার্ককে (২২) তার বাড়ির আঙিনাতেই হত্যা করে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ক্লার্ককে অন্তত ২০ বার গুলি করা হয়েছে।

পুলিশের ‘বডি ক্যামেরায়’ পুরো ঘটনা ভিডিও হয়। ২১ মার্চ রাতে পুলিশ ওই ভিডিও প্রকাশ করলে ইন্টারনেটে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা নিয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়।

২২ মার্চ ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের নেতৃত্বে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী প্রথমে সাক্রামেন্টোর সিটি হলে জড়ো হন। এরপর তারা ইন্টারস্টেট ফাইভ হাইওয়ে ধরে মিছিল করেন। এ কারণে সড়কে যান চলাচল বিঘিœত হয়। তবে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়নি বলে জানায় বিবিসি। মিছিলটি কয়েক ঘণ্টা ধরে নগরীর আরও কয়েকটি এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় তারা ‘এটি একটি ফোন, বন্দুক নয়’ বলে সোগান দেন। এরপর বিক্ষোভকারী দলটি একটি বাস্কেটবল স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নেয়। তারা পুলিশপ্রধানকে তাদের সামনে আসার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের মাঠে প্রবেশে বাধা দিতে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ফটক আটকে দেওয়ায় টিকিট থাকার পরও অনেক দর্শক ওই দিন বাস্কেটবলের একটি ম্যাচ দেখতে পারেননি।

ম্যাচ শুরু হতেও দেরি হয় এবং ১৭ হাজার টিকিট বিক্রি হলেও এদিন মাত্র ২ হাজার দর্শক মাঠে ঢুকতে পারেন।সাক্রামেন্টো পুলিশ জানায়, একটি আবাসিক এলাকায় কেউ একজন গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টা করছেন এমন খবরের পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ‘হেলিকপ্টার থেকে এক ব্যক্তিকে একটি বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে বেরিয়ে এসে বেড়া টপকে পাশের আরেকটি বাড়ির আঙিনায় ঢুকতে দেখা যায়।’

পুলিশের বডি ক্যামেরায় অন্ধকারের মধ্যে দুই পুলিশকে ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে ক্লার্ককে অনুসরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে পুলিশকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, আমাকে তোমার হাত দেখাও। ‘বন্দুক বন্দুক’। তারপরই গুলির শব্দ।পুলিশের দাবি, ক্লার্ক তার হাত প্রসারিত করে সামনে এগিয়ে আসছিলেন। তার হাতে কিছু একটা ধরা ছিল। যেটাকে পুলিশ বন্দুক ভেবে ভুল করেছে। দুই পুলিশ সদস্য ১০টি করে মোট ২০টি গুলি চালান। ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাক্রামেন্টো পুলিশ।

স্থানীয় একটি পত্রিকা জানায়, যে বাড়ির পেছনে এ ঘটনা ঘটেছে, সেটা ক্লার্কের দাদার বাড়ি এবং তিনি সেখানেই বসবাস করতেন। এ ঘটনায় তিনি নিজেও ‘আতঙ্কিত’ বলে জানান সাক্রামেন্টোর মেয়র ড্যারেল স্টেইনবার্গ।