ক্রীড়া চিকিৎসক নাসারের ১৭৫ বছরের কারাদণ্ড

স্পোর্টস ডেস্ক : কয়েক দশক ধরে দেড় শতাধিক নারী খেলোয়াড় ও রোগীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্টিকস দলের সাবেক চিকিৎসক ল্যারি নাসারকে ১৭৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।
মিশিগানের আদালতে সাতদিনের শুনানিতে ১৫৬ জন অভিযোগকারী সাবেক ক্রীড়া চিকিৎসক ল্যারি নাসারের হাতে নিপীড়নের কথা প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে মার্কিন ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যৌন নিপীড়নের ঘটনার রায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ৫৪ বছর বয়সী নাসারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় বিচারক রোজমেরি অ্যাকুইলিনা বলেন, আমি এই মাত্র তোমার মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করলাম। এ সময় নাসারকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, তুমি কারাগারের বাইরে হেঁটে বেড়ানোর যোগ্য নও। ল্যারির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্টও রয়েছেন। বিচারক অ্যাকুইলিনা রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগীরা উঠে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে রায়কে স্বাগত জানায়।
গত সপ্তাহে আদালতে বিবৃতি দেয়ার সময় এক অভিযোগকারী বলেন, নাসার কোনো চিকিৎসক নয়, বরং সে একজন শিশু নিপীড়নকারী। মানবজাতির জন্য সে একজন ভয়াবহ দানব।
যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্টিকস দলের চিকিৎসকের পাশাপাশি নাসার মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্রীড়া চিকিৎসকেরও দায়িত্বে ছিল। কবে থেকে তার এ জঘন্য অপরাধ শুরু, তার সঠিক সময় জানা না গেলেও নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা তার নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
নাসারকে মিশিগানের ইংহ্যাম কাউন্টিতে প্রথম মাত্রায় যৌন নিপীড়নের সাতটি এবং ইটন কাউন্টিতে অতিরিক্ত তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে শিশু পর্নোগ্রাফির অভিযোগে নাসারকে ৬০ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে।
এ দিকে নাসারের মামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জিমন্যাস্টিকস কর্তৃপক্ষ ইউএসএ জিমন্যাস্টিকসের নেতৃস্থানীয় তিন ব্যক্তি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। ন্যাশনাল কলেজিয়েট অ্যাথলেটিকস এ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে। আরো কিছু দেওয়ানি মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
প্রায় ১৪০ জন ভুক্তভোগী নাসার, ইউএসএ জিমন্যাস্টিকস ও মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দুই বছর আগেই নাসারের নিপীড়ন সম্পর্কে অবগত ছিল। এ দিকে প্রথমে সম্মত না হলেও মামলার রায় ঘোষণার পর নিপীড়ন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে পদত্যাগ করেছেন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট লুই অ্যানা সিমন।