ক্ষমা চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে আবারও প্রস্তুত হচ্ছে।

মিসরের অবকাশযাপন কেন্দ্র শারম আল-শেখে চলমান জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭-এ দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে প্যারিস চুক্তিতে আবারও যোগ দিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলন আহ্বান করেছি এবং নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী- আমরা নিজেদের চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম বলে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০১৬ সালের প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে ২০২০ সালের শেষ দিকে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরই বাইডেন সেই কাজকে উল্টে দেন। তিনি ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও চুক্তিতে ফিরে যাবে। ২০১৬ সালের প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের হার কমানোর লক্ষ্যে স্বাক্ষর করা হয়েছিল।

বাইডেন বলেন, ‘আজ, অবশেষে, আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ আমি এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণকরবে।’

বাইডেন অন্য দেশগুলোকেও বৈশ্বিক নেতৃত্বের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হিসেবে ‘স্থায়ীভাবে কার্বন নির্গমন কমানোর’ চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।

বাইডেন বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মানবসমাজের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং এই গ্রহের প্রাণ টিকিয়ে রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

গত গ্রীষ্মের শুরুর দিকে বাইডেন ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে এমন জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জন্য প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য এই প্রণোদনা দেন বাইডেন। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রণোদনা।

ঠিকানা/এনআই