ক্ষমা চাইলেন মোশাররফ করিম!

সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ‘জাগো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানাতে গিয়ে উল্টো নিজেই সমস্যার মুখোমুখি হলেন ছোট ও বড় পর্দার তারকা মোশাররফ করিম। পর্দা ও ধর্ষণ নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

অবশেষে নিজের ফেসবুকে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন এই অভিনেতা। পাশাপাশি তার মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।

সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নির্মিত ‘জাগো বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন মোশাররফ করিম। তবে অনুষ্ঠানটিকে শুধু উপস্থাপনা নয়, নিজের সামাজিক দায়িত্ব মনে করছেন এই অভিনেতা।

মোশাররফ করিম বলেন, ‘চ্যানেল ২৪ এর আমার উপস্থাপিত একটি অনুষ্ঠানের একটি অংশে আমার কথায় অনেকে আহত হয়েছেন। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমি যা বলতে চেয়েছি, তা হয়ত পরিষ্কার হয়নি। আমি পোশাকের শালীনতায় বিশ্বাসী। এবং তার প্রয়োজন আছে। এই কথাটি সেখানে প্রকাশ পায়নি। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা আমার অভিপ্রায় না। এ ভুল অনিচ্ছাকৃত। আমি অত্যন্ত দুঃখিত । দয়া করে সবাই ক্ষমা করবেন ।’

যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টেডএক্স’ ও ভারতের ‘সত্যমেভ জয়তে’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরে প্রচারিত হচ্ছে ‘জাগো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠানটির ১৩ পর্ব ধারণ করা হয়েছে। যেসব বিষয় নিয়ে পর্বগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ, সড়ক দুর্ঘটনা, অটিজম, যানজট, মেয়েদের ঋতুকালীন সমস্যা, শিশু ধর্ষণ, বৃহন্নলা ও পরিবেশদূষণ।

১১ মার্চ থেকে সপ্তাহের প্রতি রোববার রাত সাড়ে ৮টায় চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে দেখানো হচ্ছে অনুষ্ঠানটি। ১৮ মার্চ অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্ব প্রচারের পর তোপের মুখে পড়েন মোশাররফ করিম। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘একটা মেয়ে তার পছন্দমতো পোশাক পরবে না? আচ্ছা পোশাক পরলেই যদি প্রবলেম হয়, তাহলে সাত বছরের মেয়েটির ক্ষেত্রে কী যুক্তি দেব, যে বোরকা পরেছিলেন তার ক্ষেত্রে কী যুক্তি দেবো? কোনো যুক্তি আছে?’ এটি প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোশাররফ করিমকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

তবে বিষয়টি নিয়ে মোশাররফ করিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব, আগে পুরো অনুষ্ঠান দেখুন। যারা সমালোচনা করছেন, তারা হয়তো পুরো অনুষ্ঠানটি দেখেননি। পুরো বক্তব্য না বুঝেই দোষারোপ করছেন।’