ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়ন ৩৮১ কোটি টাকার প্রকল্প

ঠিকানা ডেস্ক : দেশের সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রণিসম্পদ উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে অনগ্রসর এ শ্রেণীর মানুষের দারিদ্র্যবিমোচন ত্বরান্বিতকরণ এবং প্রাণিজ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য ‘সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৮১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। শিগগিরই প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। সভার জন্য তৈরি কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বর্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতায় ১৩৪ নং ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলো ছাড়া দেশের ২৯টি জেলার ২০১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি মাস থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর (ডিএলএস)।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বহুজাতি, বহু ভাষা ও বহু ধর্মের দেশ। ঋতুবৈচিত্র্যের মতোই বৈচিত্র্যময় এদেশের মানুষ ও তাদের সংস্কৃতি। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঙালি হলেও তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করে আসছে। এসব জাতির মানুষ যুগ যুগ ধরে মূলধারার মানুষের সঙ্গে পাশাপাশি বাস করছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক আইন-২০১০ এর ধারা ২(১) এবং ধারা ১৯ অনুযায়ী দেশে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জাতিসত্তার সংখ্যা ২৭টি। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশের বসবাস পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। বাকি ৫৮ শতাংশ মানুষ বাস করে সমতল ভূমিতে। পক্ষান্তরে সমতলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সাঁওতাল, ওরাও, বর্মণ, খাসি, গারো ইত্যাদি অন্যতম। সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, পাহাড়িদের তুলনায় অধিক বঞ্চিত। দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতার কারণে তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনাচরণ থেকে বেরিয়ে আসছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নানা কারণে এসব নৃগোষ্ঠী এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- সুফলভোগী পরিবার নির্বাচন, নির্বাচিত খামারি পরিবারের মধ্যে প্যাকেজভিত্তিক অনুদান বিতরণ, খ-কালীন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর নিয়োগ ও তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ বিতরণ, ঘাসের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও ঘাস চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাজার সৃষ্টি, উৎপাদিত পণ্যের বজারজাতকরণ এবং ওষুধ ও টিকা ক্রয় করা হবে।