খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত

ঢাকা : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিবিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ জসিম মামলাটিতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে দাখিল করা পুলিশ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের দিনও ধার্য করেন।

২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী এ মামলা করেন। ওইদিন আদালত শুনানি শেষে শাহবাগ থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নিন্দেশ দেন। ২০১৮ সালের ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। গত ২৩ জুলাই বাদী ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ অক্টোবর বিকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভ বিজয়া অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। হরতালের সময় তারা পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে। নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় তারা অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারকে র‌্যাব দিয়ে ধরে নিয়ে খুন করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ হিন্দুদের ওপর হামলার সময় বলে, তোরা হিন্দু হয়ে বিএনপি করিস কেন?’

মামলায় বলা হয়, খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদও সৃষ্টি করেছে, যা দÐবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারার অপরাধ।

কুমিল্লার মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যার অভিযোগে করা এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি তার পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কায়সার কামাল জানান, ‘মামলাটির বিচার চলাকালে আমরা হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেছি। এ মামলায় নিম্নআদালতে চারবার জামিনের আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে। অহেতুক বিলম্ব করা হচ্ছে। সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারি কুমিল্লার আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠন ও জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু হয়নি। এখন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হলো।  ২১ জানুয়ারি বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে।’ প্রসঙ্গত, চারদলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রæয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। এতে আগুনে পুড়ে মারা যান আট যাত্রী। আহত হন আরও ২৭ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন।

রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলায় সময় মঞ্জুর

হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১০ মামলায় চার্জগঠন ও একটি মামলায় চার্জশিট আমলে গ্রহণের শুনানি পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

পুরান ঢাকার বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস সময় আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ তারিখ ঠিক করেন। মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় সময় আবেদন করেন আইনজীবীরা।

মামলাগুলোর মধ্যে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের, দারুসসালাম থানায় ৮টি নাশকতার ও যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একই ঘটনার ২টি মামলা।