খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অভ্যন্তরীণ, বাইরের হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত নয়: ওবায়দুল কাদের

ঠিকানা অনলাইন : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অভ্যন্তরীণ, এ বিষয়টি নিয়ে বাইরের কোন দেশের হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আমরা কারও অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করি না। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বাইরের হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত বলে আমরা মনে করি না। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে এটাও আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখন বেগম জিয়ার ব্যাপারে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে যতটা তাদের উদ্বেগ, তার চেয়ে মনে হয়, তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করাটাই এযাবৎ তাদের বড় চর্চা বলে মনে করি।
আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোড সেফটি-বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং চলমান সংকটের টেকসই ও গণতান্ত্রিক সমাধানের জন্য ভূমিকা রাখতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলকে চিঠি দেয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা কারও অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করি না। অন্যান্য দেশে ডেমোক্রেসি আছে, নির্বাচন হচ্ছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ৬ই জানুয়ারি ডেমোক্রেসির নামে যা হলো, আমরা তো সেটা নিয়ে প্রশ্ন করিনি। ছয়টি প্রাণ ঝরে গেল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, বাস্তবে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিছু না কিছু ত্রুটি আছে।

আমরাও আমাদের গণতন্ত্রকে পারফেক্ট বলব না। আমাদের গণতন্ত্রকে আমরা ত্রুটিমুক্ত করার জন্য চেষ্টা করছি।
মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল নিজে ব্যর্থ। সবার আগে বিএনপি নেতৃত্বের টপ টু বটম পদত্যাগ করা দরকার। দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন তারা করতে পারেনি। বিএনপির ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, দেশের গণতন্ত্র আনবে কীভাবে।

জামায়াত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটা উচ্চ আদালতে আটকে আছে। সরকার তো এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। যেহেতু সেখান থেকে কোনো নির্দেশ আসেনি। বিএনপি জামায়াতকে আবার মাঠে নামিয়েছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই বাড়াতে জাতিসংঘের প্রতি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কি হিউম্যান রাইটসের আদর্শে চলি? তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আমরা চলি? আমাদের উন্নয়ন, আমাদের উন্নতি, আমাদের সমৃদ্ধি, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ, আমাদের এখনকার স্মার্ট বাংলাদেশ পরিকল্পনা কি তাদের কথায় করি? আমরা তো এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা তো আমাদের দেশটার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন বাইরের বিষয় নানান হস্তক্ষেপ থাকে। এটার নানান কারণে থাকে। আমার মনে হয় প্রত্যেকেরই নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখা উচিত। কারও চাপে নতি স্বীকার করি না, করব না।’

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে না পাওয়া সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি। বিশ্বব্যাংক ইচ্ছা করলে পদ্মা সেতুতে জড়িত থাকতে পারত। এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে এ জন্য শুধু বিশ্বব্যাংককে দায়ী করা যাবে না; এর সঙ্গে আমাদের দেশের বাঘা বাঘা ব্যক্তিও জড়িত ছিল। এটা বড় ভুল বোঝাবুঝি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের (পরিবহন) প্র্যাকটিস ম্যানেজার ফেই ডেং। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান।

এসআর