খালেদা জিয়ার গ্রিন সিগন্যাল বিএনপির লন্ডন কনফারেন্স

বিশেষ প্রতিনিধি : তাগিদ থাকলেও বিএনপির কাউন্সিল আপাতত হচ্ছে না। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলকে চাঙা করতে কাউন্সিলের দাবি ও পরামর্শ আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এর যৌক্তিকতা মানলেও কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে কাউন্সিলের ব্যাপারে সবুজসংকেত মিলছে না। এ সময় কাউন্সিল হিতে বিপরীত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তারা। ভায়া মারফতে বেগম খালেদা জিয়া সবাইকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। তার কাছে সব তথ্যই রয়েছে। কে কী করছেন, তাও তিনি জানেন। যথাসময়ে যথানির্দেশনাই তিনি দেবেন বলেও বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের বার্তাও এমনই। তবে বাড়তি সংযোজন হচ্ছে, বিএনপির কয়েক নেতাকে লন্ডন তলব। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। সরাসরি তাদের লন্ডনে যেতে বাধা আসতে পারে। তাই ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, ভারত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বিএনপির উল্লিখিত নেতাদের। সেখানে তাদের নিয়ে একটি কনফারেন্সে বসবেন তারেক রহমান। এ ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়ারও গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিএনপির নেতারা। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর দলটিতে কোন্দল, হতাশা এবং বিভক্তির প্রেক্ষাপটে লন্ডন কনফারেন্স একটি ফ্যাক্টর হতে পারে। এতে বেশি গুরুত্ব পাবে দল পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি।
সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও তারেক রহমানের কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, সেখানে তারেক রহমানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বিশেষ বৈঠকও হয়েছে। সেখানে তারেকও স্কাইপে তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হন। লন্ডনে তারেক রহমানের এ ধরনের তৎপরতার আপডেট যাবতীয় তথ্যই রয়েছে সরকারের কাছে। ব্রিটেনের বিদ্যমান আইনে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তা খোলাসা না করে সরকার থেকে রাজনৈতিক মেঠো বক্তব্যে বলা হচ্ছে, তারেককে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু আসল খবর হচ্ছে, তারেকের যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকারহারা করার আয়োজন। সেই অধিকারহারা হলে তাকে চলে যেতে হবে অন্য কোনো দেশে। এটিও সরকারের জন্য রাজনৈতিক বিজয়।
ব্রিটেনের আইনে সেখানে কোনো রাজনৈতিক আশ্রিত যদি তার নিজ দেশের বাইরে তৃতীয় দেশে যেতে চায় এবং তৃতীয় দেশ যদি তাকে গ্রহণে অনাপত্তি দেয়, তাহলে তাকে তৃতীয় দেশেই দিতে হবে। ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়লাভকারীকে জোর করে তার নিজ দেশে পাঠানো যায় না।