খালেদা জিয়ার মুক্তি : আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবে ২০ দল

রাজনৈতিক ডেস্ক : খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।
আজ রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়াপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক বৈঠকে ২০ দলীয় জোট নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণার পাশাপাশি তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিকেল ৫টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে টেলিফোনে জোট নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে বর্তমান জুলুম থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষার শপথ গ্রহণের আহবান জানান। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নিন্দেশ অনুযায়ী কারো পাতা ফাঁদে পা দেয়ার বিষয়টি জোট নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন।
বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।
জোটের শরিকদের মধ্যে জামায়াতের ইসলামীর আবদুল হালিম, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ, সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আবদুল কাদের, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানী আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা শাহিনুর পাশা, মাওলানা রেজাউল করীম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ইসলামিক পার্টির সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০ দলীয় জোটের সভায় দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে বিএনপি যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সে কর্মসূচির প্রতি সবদল একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তারা এসব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণও করবে। একই সাথে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, জোটের এই সভায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে যে সাজা দেয়া হয়েছে এবং তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে তার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা। একই সাথে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে। দেশনেত্রীর গ্রেফতারের পর থেকে পুলিশ নির্যাতনে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানানোও হয়েছে।
খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর তার অনুপস্থিতিতে জোটের নেত্রী কে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীই হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের নেত্রী। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। আমি জোটের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছি।
মির্জা ফখরুল জানান, বৈঠকে তারেক রহমান ফোনে বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যে জনগণের একটি জোট প্লাটফর্ম তৈরি করার কথা বলেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জোটের এই বৈঠকে দেশনেত্রীর সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যের আহবানকে জোটের নেতারা সমর্থন করেছেন। এই জোটের ঐক্যকে আরো প্রসারিত করবার জন্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।