খেলার মাঠে অন্য কোনো স্থাপনা নয়: সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের মাঠটি মুক্ত হোক

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর মুক্ত হওয়ার খবরে আমরা যেমন স্বস্তি পেয়েছি, তেমনি মাঠের এক অংশে একটি ভবন, যুবলীগের কার্যালয় ও ওয়াসার পানির পাম্প থাকার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। এতে করে মাঠটি যেন মুক্ত হয়েও হলো না।

গত মঙ্গলবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপ নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি ভাড়া নেয়। তমা গ্রুপ নির্মাণসামগ্রী রাখার পাশাপাশি পাঠের এক পাশে একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করে। তমা গ্রুপকে ভাড়া দেওয়ার কিছুদিন পরই মাঠের সামনের একাংশে একটি কার্যালয় তৈরি করে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ। আবার আড়াই বছর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই ঢাকা ওয়াসা মাঠের আরেক কোনায় পানির পাম্প বসায়।

সম্প্রতি মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক উদ্বোধনের পর তমা গ্রুপ মাঠ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মাঠটি সংস্কার করে তা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তমা গ্রুপের কাছ থেকে এ বছরের ভাড়া না নিয়ে ভবনটি রেখে দেয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইছে ভবনটিতে শিক্ষকদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু এসব স্থাপনা ও পানির পাম্প অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এই দাবি যৌক্তিক। মাঠটিকে অবশ্যই আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। একটি বিদ্যালয়ের মাঠে এ ধরনের স্থাপনা রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় থাকার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের মাঠের ওয়ার্ড যুবলীগের কার্যালয়ে বখাটে যুবকদের আড্ডা ও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে।

আমরা চাই সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হোক। মাঠটি শিক্ষার্থী ও এলাকার কিশোরদের খেলার উপযোগী করা হোক। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি।