গরম গেলো বলে : চলছে মৌসুমের শেষ বনভোজন আয়োজন

ঠিকানা রিপোর্ট : গরম যায় যায়। স্কুল-কলেজের ছুটিও শেষ। বাতাসে শীতের আমেজ। খোলা আকাশের নিচে বনভোজনের মতো আনন্দ-আয়োজনের দিনও শেষ হয়ে আসছে। বিদায়ের আগে তাই বনভোজনের মতো আনন্দ উৎসবেও চলছে তাড়াহুড়ো। যারা এখনও পিকনিকের আয়োজন সেরে উঠতে পারেনি, তাদের কারো কারো আয়োজনে গত সপ্তাহেও কম্যুনিটি ব্যস্ত থেকেছেএ সেন্ট্রাল পার্কসহ অনেক পার্কই সরব ছিলো বাঙালি কম্যুনিটির পিকনিকে।

প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি
নিউইয়র্ক : গত ১৮ আগস্ট রোববার, প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি ইউএসএ ইনকের উদ্যোগে মনমুগ্ধকর ছায়াঘেরা পরিবেশে, পাখির গান ও গুনজনে ভরা লং আইল্যাল্ড বেথপেইজ স্টেট পার্কে সহস্রাধিক প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো সংগঠনের বার্ষিক ২০১৯ বনভোজন। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহবায়ক, সদস্য সচিব, উপদেষ্টাবৃন্দ ও কার্যকরী কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে জ্যাকসন হাইটসের ব্রডওয়ে এবং ৭৩ স্ট্রিট এর কর্নার থেকে সকাল ১০ টায় তিনটি বাস সহ প্রায় দুইশত প্রাইভেট গাড়ির বনভোজনের জন্য যাত্রা শুরু হয়। তিনটি বাসের নেতৃত্ব দেন আবু তালেব মাতুব্বর, রেজবুল কবির, মো: রুহুল আমিন এবং মোঃ রফিকুল ইসলাম।
পার্কে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ঊপস্তিত ছিলেন সহ সভাপতি এস ইসলাম মামুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মামুন উর রসিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেইন লিটন ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ এফ খান চুন্নু।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডক্টর রুমানা সবুর, সভাপতি কাজী জামান, সাঃ সম্পাদক রুহুল আমিন নাসির, আহব্বায়ক মনজুর মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব ফয়সাল আহমেদ এক গুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোদনী অনুষ্ঠানে ডাক্তার রুমানা সবুর বলেন, নুতন প্রজন্মকে এই ধরণের অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা বেশি প্রয়োজন এবং বড়দের মূলধারার সাথে কাজ করার পরামর্শ দেন যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মূলধারার সাথে সহজেই খাপ খাওয়ায়ে নিতে পারে। অনুষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে নিজ নিজ টিমসহ দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে খেলাধুলায় রুহুল আমিন, সদস্যদের রেজিস্ট্রেশনে কোষাধাক্ষ মাহাবুব আলম রুমেল ও শাহীন পারভীন, সাংস্কৃতিক পর্বে মামুন উর রশিদ, খাবারে উপদেষ্টা মোঃ শাহ আলম, রাফেল ড্র টিকেটের দায়িত্বে মোঃ ওমর ফারুক রিপন, বিশেষ অতিথিদের আপ্যায়নে সহ সভাপতি এস ইসলাম মামুন এবং কাজল মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে সর্বক্ষণের জন্য মঞ্চটিকে প্রাণবন্ত করে রাখেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী তানভীর শাহীন ও নাভিন মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। খেলার মধ্যে আকর্ষণীয় ছিল দুই থেকে আড়াইশো মেয়েদের অংশগ্রহণে বালিশ খেলা প্রতিযোগিতা।
বনভোজনের সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, সাঃ সম্পাদক, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং কার্যকরী পরিষদের অনেক সদস্যবৃন্দ। ২০১৯ বনভোজন উপলক্ষে চন্দ্র মেলা নামে একটি সুন্দর ম্যাগাজিন এর প্রকাশনা বের করা হয়।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবাসী বরিশাল বাসীদের পদচারণায় পার্কটি একটি ছোট্ট বরিশালে পরিণত হয়। খেলাধুলায় আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং রাফেল ড্রতে স্বর্ণের হার, নিউ ইয়র্ক-ঢাকা রিটার্ন টিকেট সহ অনেক পুরস্কার। সবশেষে সংগঠনের সভাপতি কাজী জামান উপস্থিত সকলকে বনভোজনে উপস্থিত থেকে বনভোজনে সফলতা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন
নিউ ইয়র্ক: ব্যাপক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক্’র বার্ষিক বনভোজন। গত ২৫ আগস্ট রোববার অনুষ্ঠিত এ বনভোজনে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সীতে বসবাসরত সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দিনভর নিউজার্সীর ক্রেইগমোর রিক্রেশন কমপ্লেক্সে নানান আনন্দ উপভোগ করেন। মেতে ওঠেন বর্ণাঢ্য আয়োজনে। বনভোজনে বিপুল সংখ্যক সিলেট দক্ষিণ সুরমাবাসী যোগ দেন। বনভোজনটি পরিনত হয় সিলেট দক্ষিণ সুরমাবাসীর মিলন মেলায়।
এদিন দুপুরে স¤প্রীতি ও সৌহার্দপুর্ণ পরিবেশে বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আগে অতিথিদের এপিটাইজার পরিবেশন করা হয়।
সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র আহ্বায়ক শফিউর রহমান বাবুলুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শামিম আহমেদের পরিচালনায় বনভোজন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক বিলাল ইসলাম ও আবদুল আহাদ জেলাল, সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী, আল আমিনুল হক পান্না, মো.হক সিরাজ, জামাল উদ্দিন ও ওলিউর রহমান তোরণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র প্রধান উপদেষ্টা মো. ফখরুল ইসলাম মাসুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউজার্সীর পেটারসনের ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলম্যান শাহিন খালিক। অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন উপদেষ্টা আবদুল কাদির আশিক, বেলাল আহমেদ, জুনেদ আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনহার মিয়া, আবদুল হাই হেলাল, তারিন চৌধুরী, ইমন খান, মুনিম খালিক, আবুল হোসেন সুরমান, শাহীন মোহাম্মদ, মিনহাজ আহমেদ, সিহাব আহমেদ, জুবের মতিন প্রমুখ। বনভোজনে খেলাধুলার সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মিসবাহ উদ্দিন ও এনামুল বারী সুজন।
আয়োজকরা জানান, বনভোজনে জনপ্রিয় শিল্পীরা তাদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের। বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়েদের জন্য ছিল খেলাধূলা। প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক ছেলে-মেয়ে এতে অংশ নেয়। পুরুষ-মহিলাদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। ১১ টি ইভেন্টের উপভোগ্য খেলাধূলা ছাড়াও সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ র‌্যাফেল ড্র।
শেষে খেলাধুলায় অংশগ্রহনকারি এবং র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। র‌্যাফেল ড্র’র পুরস্কারের মধ্যে ছিল : ১ম পুরস্কার ৬৫ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি, ২য় ও ৩য় পুরস্কার আই ফোন সিক্স এস, ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ পুরস্কার ছিল লেপটপ। এছাড়াও র‌্যাফেল ড্রতে আরও ৫টি বিশেষ পুরস্কার ছিল।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশের এ পিকনিক আয়োজন সম্ভব হয়েছে। অথিতিরা চমৎকার আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সী সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত সিলেট দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫’শ প্রবাসী যোগ দেন এ বর্ণাঢ্য উৎসবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

নিউইয়র্ক : সাট অ্যালামনাই ইউএসএ’র বনভোজনে অংশগ্রহণকারী। 

জুয়ানা
নিউইয়র্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (জুয়ানা)’র বার্ষিক বনভোজন গত ২৫ আগস্ট রোববার অনুষ্ঠিত হয় লং আইল্যান্ডের হ্যামেস্টেড লেক স্টেট পার্কে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্যাচের এ্যালামনাই পার্কের ছায়াঘেরা বনভোজন স্পটে জড়ো হতে থাকে, বেলা বাড়তে বাড়তে তা পরিণত হয় নবীন-প্রবীণ এ্যালামনাই এর সমন্বয়ে এক চমৎকার মিলনমেলায়। বনভোজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকে সব ব্যাচের দেড় শতাধিক এলামনাই এবং অতিথির উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয়। বেলা ১১ টায় জুয়ানার নির্বাচন কমিশনার গোলাম হায়দার সারোয়ারের সভাপতিত্বে বনভোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: জিয়াউল হকের পরিচালনায় উক্ত বনভোজনে উপস্থিত ছিলেন জুয়ানার সাবেক সভাপতি রানা রায়হান, মো: ফরিদ হোসেন, মশিউর রহমান কামাল, মো: মনিরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি এবং বনভোজন কমিটির আহবায়ক রিয়াজুল কাদের জহির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেরুন নাহার মাজেদা, জুয়ানার সাংগঠনিক সম্পাদক ভগবতী কর্মকার, সহ সাধারণ সম্পাদক মো: সোহেল হোসেইন, কোষাধ্যক্ষ মো: জালাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক আজিজুল বারী তিতাস, সদস্য জুনারো জাফরী, মনোয়ার হোসেন মাহাথীর। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের শেষে শুরু হয় বিভিন্ন ইভেন্টে খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা আর ভোজন বিলাসীদের জন্য দুপুরে পরিবেশন করা হয় মুখরোচক দেশীয় খাবার। বনভোজনের আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক খেলাধুলাসহ র‌্যাফেল ড্র। এতে আইপেড, ল্যাপটপ, টিভিসহ ছিল অনেকগুলো পুরস্কার। সবশেষে বনভোজন উদযাপন কমিটির আহবায়ক উপস্থিত সবাইকে জুয়ানার বনভোজনে অংশগ্রহন করার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান এবং এ্যালামনাইদেরকে জুয়ানা’র ভবিষ্যত কর্মকান্ডে আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হবার আহবান জানান। পড়ন্ত বিকেলে সকলে ছায়াঘেরা পরিবেশে ভ্রমণ শেষ করে আনন্দমন নিয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরেন। উল্লেখ্য, সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের মায়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
বাংলা ক্লাব : নিউইয়র্কে আনন্দঘন-উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সামাজিক সংগঠন বাংলা ক্লাব ইউএসএ’র বনভোজন। গত ৩১ আগস্ট শনিবার ব্রঙ্কসের পেলহাম বে পার্কে এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। বনভোজনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ক্লাবের সদস্য ও তাদের স্বজনরা পার্কের খোলা মাঠে খেলাধুলাসহ নানান আনন্দ উপভোগ করেন। নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোরদের উপস্থিতিতে এটি পরিণত হয় ক্লাব সদস্যদের মিলন মেলায়। বনভোজনে বারবিকিউসহ মজাদার সব খাবার উপভোগ করেন সকলে। পুরুষ-মহিলা ও শিশু-কিশোরা অংশ নেয় বিভিন্ন খেলাধূলার। বনভোজনে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র। লটারীতে ভাগ্যবানরা জিতে নিয়েছেন লোভনীয় সব পুরস্কার। শেষে খেলাধুলায় অংশগ্রহনকারি ও র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বনভোজনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ।
সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম পিনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা মো: হারুন ভ‚ইয়া, সহ সভাপতি মো. মমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, প্রচার সম্পাদক সোনার বলাই, সদস্য মঈদুল লস্কর জুয়েল প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মীর এস আলী, মীর আবদুল লতিফ, রুহুল আমিন, সহ সভাপতি মো: কামরুজ্জামান বাবু, সদস্য হারুনুর রশিদ ভূইয়া, মিজানুর রহমান, শাহ মনজুরুল হক, শহীদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, মামুনুর রশিদ, কাজী রকিব, মো. কে জামান, চুন্নু সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রোজি সহ অন্যান্যরা। দর্শকরা প্রাণভরে উপভোগ করেন মনোজ্ঞ এ পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে র‌্যাফল ড্র’র পুরস্কারের মধ্যে ছিল : সোনার চেইন (রুহুল আমিন, পসড়া), ৫০ ইঞ্চি টেলিভিশন (মোহাম্মদ হাসনাত জাকির, আল আকসা রেষ্টুরেন্ট), ল্যাপটপ (আবদুস সহিদ, পিঠা ঘর), কফি মেশিন (আবুল কালাম পিনু, সভাপতি, বাংলা ক্লাব) এবং মোবাইল ফোন (মো: কামরুজ্জামান বাবু, সহ সভাপতি, বাংলা ক্লাব), ডিনার সেট (আজিজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলা ক্লাব)।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম পিনু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রবাসে কর্মব্যস্ত জীবনের একটি দিন অন্তত নির্মল আনন্দে কাটবে এই প্রত্যাশায় আমরা এ বনভোজনের আয়োজন করেছি। সকলের আন্তরিক সহযোগিতার এই আয়োজন সফল হয়েছে। তারা এ আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারা আগামী দিনে আরো ভাল কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ জন্য তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সাস্ট আ্যালামনাই ইউএসএ
নিউইয়র্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন সাস্ট আ্যালামনাই ইউএসএর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ আগস্ট ‘তোমাদের কারও কি মনে পড়ে সেই এক কিলোর কথা, যেই পথ ছিল আমাদের স্বপ্নে আঁকা সবুজের মাঝে রোঁদের উঁকি ঝুঁকি আর দু’পাশে বয়ে চলা লেকের সুনসান নিরবতা’ -এই স্লোগানকে উপজীব্য করে এবারের বনভোজন আয়োজন করা হয়।
নিউইর্য়কের এস্টোরিয়া পার্কে আয়োজিত এই বনভোজনে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটকিাট, পেনসিলভেনিয়ার বিভিন্ন পেশায় কর্মরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত সাস্ট আ্যালামনাই ও তাদের পরিবারসহ প্রায় দুই শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
বনভোজন শুরু হয় সকাল এগারোটায়। সকাল থেকেই নিউইর্য়কের বিভিন্ন বরো থেকে অংশগ্রহনকারীরা পার্কে জড়ো হতে থাকে। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে সবার মাঝে সকালের নাস্তা বিতরণ করা হয়। তরমুজ, পিৎজা, সিংগারা, চমুচা ও ঠান্ডা পানীয় দিয়ে অতিথিদের অ্যাপায়ন করা হয়। এরপর শুরু হয় মূল পর্ব। এ পর্বে ছিল ছোট ও বড়দের খেলাধুলা, ফুটবল, পিলোপাস, বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের দৌড়, বল নিক্ষেপ, হাডি ভাঙ্গাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতা। এতে সাস্টিয়ান পরিবার ও সন্তানেরা অংশগ্রহণ করেন। খেলাধুলা শেষে পরিবেশন হয় দুপুরের খাবার।
মধ্যাহ্ন ভোজের পর পার্কের মনোরম পরিবেশে শুরু হয় ফটোসেশন। পরিচয় পর্ব শেষে একে একে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালেেয়র প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তারা বক্তব্যে ক্যাম্পাসের স্মৃতিচারণের সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে যান এবং পাশাপশি আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। পুরষ্কার বিতরণের পূর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্বদ্যিালয়ের প্রথম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফরিদ আলম ও মাসুদুর রহমান, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বদরুল হক, ৪র্থ ব্যাচের আকলিমা আহমেদ, সুজিত পুরকায়স্থ, তাহরিমা বেগম।
পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অসীম কুমার সরকার, সায়েদ জাবেদুর মুনির, আহমেদুর রহমান রণি, এহেছানুল হক (টিপু), তাপুতী চৌধুরী, রাজেশ কুমার শাহা, সঙ্গমিত্র দেব মুন্নী, মাহবুব আহমেদ মাসুম, মোঃ সাদিকুর রহমান সুফিয়ান, আজহার আহমেদ, জুনাইদ আরেফীন, শাকির হোসেন, মাসুদুর রহমান, বদরুল হক, মোঃ কামাল হোসেন, সিদ্দিকা চৌধুরী, হুমাইয়ারা সুলতানা, মোঃ আবুল কাশেম, জাফর আহমেদ, ইমতিয়জ চৌধুরী, মো আবু বকর সিদ্দিক, আলমগীর হোসেন, শফি সিদ্দিকী, তৌফিক আহমেদ প্রমুখ।।
অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পিকনিক আয়োজক কমিটির আহবায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিএস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন ভুঁইয়া।
বনভোজনে বিভিন্ন বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য আয়োজন করা হয় দৌড় প্রতিযোগিতা। সাত বছর ও এর উপরে ছেলেদের দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয় মাহিমিন, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে আইরান ও ইউসুফ। সাত বছর এর নিচে ছেলেদের দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয় তাফসীর, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে রাজদীফ ও আবীর। সাত বছর ও এর উপরে মেয়েদের দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয় উর্মি, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে নাফীসা ও মাইশা। সাত বছর এর নিচে মেয়েদের দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয় ফাইরুজ, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে জামিলা ও রাজমিয়া। বালিশ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয় তাসমিয়া চৌধুরী, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে পলি ও লিমা। হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয় তিথি, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে ফরিদা ইয়াসমিন ও মাইশা।
সবশেষে আয়োজন করা হয় বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি জিতে নেন রাজু, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী যথাক্রমে ফারহান ও পিটু।
শেষে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী ও র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন সাস্ট আ্যালামনাই ইউএসএর আয়োজক কমিটির আহবায়ক আলাউদ্দিন ভুঁইয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফরিদ আলম ও মাসুদুর রহমান।
শেষে আয়োজক কমিটির আহবায়ক আলাউদ্দিন ভুঁইয়া সাস্ট আ্যালামনাই ইউএসএর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।