গাইবান্ধা-৩: আ’লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী

ঢাকা : গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি) আসনে নির্বাচনে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ১৩২টি কেন্দ্রে চ‚ড়ান্ত ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৬৩ ভোট। তার নিকটতম জাতীয় পার্টির দিলারা খন্দকার পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৮৫ ভোট। এ ছাড়া জাসদের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ১১ হাজার ৬৩০ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিজানুর রহমান তিতু ৫৪৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো জাহিদ পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮ ভোট।

নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ এনে দুপুরে জাসদের প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মোনা বলেন, ভোট বর্জনের বিষয়টি প্রার্থীর ব্যক্তিগত। এটা দলের কোন সিদ্ধান্ত নয়।

গাইবান্ধার সহকারি রিটানিং আফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ওই দুই উপজেলার ১৩২টি কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ২ হাজার ৫ শত পুলিশ সদস্য, বিজিপি ২০ প্লাটুন, র‌্যাব ২০ প্লাটুন ও ১ হাজার ৫৮৪ জন আনসার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শুরু থেকে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুই একটি কেন্দ্র ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েনি। তবে ভোট গ্রহণের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অব্যাহতভাবে ভোটাররা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসে। তবে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরে পাইলট বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দুই একজন করে ভোটার কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে। কেন্দ্রে ভোটারদের কোন লাইন ছিল না। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩৫ জন। সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২১১টি। অন্য দিকে সাদুল্যাপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তিন হাজার ৩৩২ জন ভোটারের মধ্যে বেলা ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২০০টি। এ ছাড়া ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গঙ্গা নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৮০ জন ভোটারের মধ্যে সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২৮০ জন।

ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোন্দ রহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টায় ২ হাজার ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৬০ জন। অপর দিকে ওই ইউনিয়নের টিয়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত ৪ হাজার ৪১০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫০০ জন। বেলা পৌনে ১২টায় খোন্দ কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ হাজার ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৩২০ জনের।

পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ হাজার ৭২৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে শতকরা ২৩ ভাগ বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার এ কে এম জাকির হোসেন। ওই উপজেলার সুইগ্রাম ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে বেলা ১টা পর্যন্ত ২ হাজার ৫৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৫০ জন ভোটার। এ তথ্য জানিয়েছেন, ওই ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রাজিব আহমেদ। পলাশবাড়ি টাউন হল মহিলা ভোট কেন্দ্রে ৩ হাজার ১০২ জন ভোটারের মধ্যে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে শতকরা ৩৫ ভাগ। জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার শফিউর রহমান চৌধুরী। অপর দিকে পলাশবাড়ি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে পুরুষ ভোটকেন্দ্রে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে শতকরা ৩১ ভাগ। জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার নয়ন কুমার চক্রবর্ত্তী।

এ দিকে সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পীরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন শতকরা ৫০ ভাগ। জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার মতিয়ার রহমান।

রিটার্নিং অফিসার ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন জানান, কোথাও থেকে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট গণনার পর ভোট প্রয়োগের হার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভোটের ফলাফলরাত ৮টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৩২টি কেন্দ্রর মধ্যে ১১৩টির বেসরকারি ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম জাতীয় পার্টির দিলারা খন্দকার পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৭ ভোট। এ ছাড়া জাসদের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ১০ হাজার ৩০১ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিজানুর রহমান তিতু ৪৯৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ পেয়েছেন ৯৫২ ভোট।

নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ এনে দুপুরে জাসদের প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মোনা বলেন, ভোট বর্জনের বিষয়টি প্রার্থীর ব্যক্তিগত। এটা দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।