গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন বরসহ ৩ বন্ধু

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : আগামীকাল সোমবার ছিল বিয়ে, আজ রোববার গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে লাশ হয়ে ফিরতে হলো বরসহ তিন বন্ধুকে। ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে যাওয়ার পথে লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যান রব তানজিল মোল্লাসহ তিন বন্ধু। উৎসবের পরিবর্তে বিয়েবাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার করে ৭৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন গোসাইরহাটের শাহ আলী মোল্লার ছেলে তানজিল মোল্লা, তার বন্ধু জামালপুরের বোরহান আলীর ছেলে সাগর আলী ও টাঙ্গাইলের নাজিম উদ্দিনের ছেলে শাকিল আহমেদ।

নিহত তানজিলের পরিবার ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিয়ের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে পরিবার। কিন্তু লঞ্চ দুর্ঘটনার খবরে উৎসবের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবার রাত ১০টায় ঢাকা থেকে স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চে গোসাইরহাটের উদ্দেশে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে যাত্রা করেন তানজিল মোল্লা।

আজ রোববার ভোর ৪টার দিকে সাইক্কা সেতুর নিচ দিয়ে আসার সময় লঞ্চের ছাদে থাকা পানির ট্যাংকের সঙ্গে ব্রিজের ধাক্কা লাগে। এ সময় পানির ট্যাংক দুমড়ে-মুচড়ে আছড়ে পড়ে ঘুমন্ত যাত্রীদের ওপর। ঘটনাস্থলেই মারা যান তানজিলে এবং তার বন্ধু সাকিল আহমেদ ও সাগর আলী। এ ঘটনায় আহত আরও দুজনকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নিহত তানজিলের দাদা রতন মিয়া বলেন, ‘কাইল বিয়ার জন্য বাড়িতে অনেক মেহমান আইছে। আইজ সন্ধ্যায় অর গায়েহলুদের কথা আছিল। রাইতে ঢাহার তোন আহনের সময় লঞ্চ দুর্ঘটনায় সব শ্যাষ কইরা দিল। বিয়ার উৎসবের বদলে অহন আমাগো লাশ লইয়া দৌড়ান লাগতাছে।’

দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চযাত্রী নিহত তানজিলের ফুপু হাসনা ভানু বলেন, ‘রাইতে ঘুমের ঘোরে আচুক্কা বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে খবর পাই ভাইর বেটা তানজিলসহ তিনজন মইরা গেছে। লঞ্চে যাত্রী বেশি আছিল, তাই নিচে জায়গা পায় নাই ওরা। ছাদে গিয়া ঘুমাইছিল। আগে যদি জানতাম মানিকরে আমার বুকে লইয়া ঘুমাইতাম।’

গোসাইরহাট লঞ্চঘাটের ইজারাদার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শনিবার ঢাকা থেকে দুটি লঞ্চ ছেড়ে আসার কথা থাকলেও একটি লঞ্চ আসে। ফলে দুই লঞ্চের যাত্রী একটিতে নেওয়া হয়। ফলে ডেকে জায়গা না পেয়ে ছাদে যাত্রা করেন অনেক যাত্রী। দুটো লঞ্চ ছেড়ে এলে হয়তো যাত্রীদের ছাদে উঠতে হতো না।’

গোসাইরহাট থানার উপপরিদর্শক মতিউর রহমান বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই লঞ্চকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাফী বিন কবির বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার করে মোট ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্তকারী দলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঠিকানা/এনআই