গুডবাই হাবিব!

সাঈদ তারেক: দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছেই না। গত ২০ জুলাই সকালে ফেসবুক খুলতেই আমার জন্য এক ভয়ংকর দুঃসংবাদ। দীর্ঘদিনের বন্ধু বিটিভির সাবেক প্রযোজক আহসান হাবিব কোহিনুর ভোরে চলে গেছে। একেবারে অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য! করোনা ধরেছিল তা নয়। যতদূর জানতাম ডায়াবেটিস নাই, হার্টের অবস্থাও খারাপ না। বয়স আমার চেয়ে কয়েক বছর বেশি। তারপরও এমন সুস্থ সক্ষম একজন মানুষ হঠাৎ করে চলে যাবে, কি করে মানা যায়! বেশ সময় লাগলো ধাতস্থ হতে। ওর নিউইয়র্ক প্রবাসী ছোট ভাই তাজুল ইমাম ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ভোর রাতে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছে হাবিব।

বাসায়ই থাকতো। করোনা প্রতিরোধের যাবতীয় সাবধানতাই মেনে চলতো। প্রায়ই কথা হতো। এই কদিন আগেও কিছুটা খুনসুটি হলো। বললাম এভাবে একনাগাড়ে ঘরে বসে থাকলে ভয় কাটবে না, মাঝেমাঝে বাইরে বের হও। সে বলেছিল, বউ বারান্দায়ই আসতে দেয় না, আবার বাইরে যাওয়া! সেই হাবিবের হার্ট অ্যাটাক কেন হবে! যাহোক একটু খোঁজখবর করে জানা গেল কয়েকদিন আগে দাঁত তোলার কারণে দাঁতের ব্যথায় ভুগছিল। ডাক্তারের পরামর্শে পেইন কিলার খাচ্ছিল। উপশম না হওয়ায় ১৯ জুলাই নাকি স্যালাইনও দিতে হয়েছে। ভোর রাতে ঘুমের মধ্যেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট! ঠিক একইভাবে কদিন আগে আমার এক সাংবাদিক বন্ধু ফারুক কাজীও চলে গেছে। ডেঞ্জারাস! এখন তো দেখছি পেইন কিলারও নীরব ঘাতক হয়ে উঠতে পারে!
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি ছিল আমার এই বন্ধুটি। নাটক লিখতো, পরিচালনা করতো, অভিনয় করতো, আবৃত্তি করতো। গান গাইতে পারতো, বাঁশি বাজাতো, তবলা বাজাতো, বেহালা ভায়োলিন বাজাতো। ছবিও আঁকতো। মনে আছে তিন দশক আগে ওর ভায়োলিন বাজানো শুনতে দুই বন্ধু চাঁদনি রাতে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতাম বুড়িগঙ্গার ওপার ধলেশ্বরীর পাড়ে। মন উজাড় করে দিয়ে বাজাতো হাবিব। মনের সুখে আড্ডা পিটিয়ে বাসায় ফিরতাম ভোর রাতে। পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা ব্রিজ তখন সবে তৈরী হয়েছে, চালু হয় নাই। লিখতো। কিছুদিন আগে বললো গুরু গম্ভীর একটা বিষয়ের ওপর গবেষণাধর্মী বই লিখেছে। ফাইনাল টাচ চলছে। সামনের বই মেলায় দেয়ার ইচ্ছা। ইদানিং বাসায় বসে ওটারই কাজ করতো। আশির দশকে বিটিভিতে আমার কয়েকটা নাটক প্রযোজনা করেছে হাবিব। বাঘ, সাবধান বিপজ্জনক, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নাটকগুলো সে সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। করোনার আগ পর্যন্ত একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন ক্লাশ নিতো।
একেবারেই হঠাৎ করে চলে গেল বন্ধুটি আমার। এটা ঠিক হলো না। দীর্ঘদিন অসুখে ভুগে অগত্যা চলে যাওয়া আর ঘুমের মধ্যে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়া- এক না। এটা ঠিক হলো না হাবিব। এমনটা কখনো ভাবি নাই। মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিছুদিন আগে চলে গেছে মুসা। শিল্পকলায় আমাদের কফি হাউসের আড্ডাটার পরিধি কমে আসছে। ভালো থাকো হাবিব, শান্তিতে থাকো।