গেদুচাচার খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

হাছিনা বিবি,

চিঠির শুরুতে দেশ গেরামের লাখোকুঠি পাবলিকের পক্ষ হইতে এই অধম গেদচাচার শতকুঠি ছালাম গ্রহণ করিবেন। আশভ করি মহান আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় একপ্রকার ছহি ছালামতে আছেন। আমরাও খোদা চাহেতো শাহজী বাবার নজর করমে কোনো রকমে বাঁচিয়া আছি। প্রতি সপ্তাহের মতো আজো বেশকিছু দরকারি কথাবার্তা লইয়া আপনার সমীপে দুই-চার কলম লিখিতে বসিলাম। আশা করি আগের মতো এই চিঠিখানিও একটু পড়িয়া দেখিবেন। পর সমাচার হইলো এই যে-
এলেকশনতো পুরাদমে শুরু হইয়া গেলো। যাহারা ভোট করিবেন না বলিয়া নানার কিছিমের তনোমনো করিয়াছিলো, ৭ দফা না মানিলে ভোটে যাইবে না কহিয়াছিল, সকলেই এখন ভোটের পথের যাত্রী। তয় এখনো নানান কিছিমের বাহানার কথা শোনা যায়। ভোট কখন হইবে তাহা লইয়া নানান কথা। ‘চাল-ডালের খবর নাই মিডা কোমড়া লইয়া শিবের গীত চলিতেছে। এখন সময় কেন, প্রস্তুতি না থাকিলে এইগুলো কিসের দল? পল্টনে মির্জা আব্বাসের মিছিল হইতে পুলিশ আক্রমণ, গাড়ি পোড়া ইত্যাদি কাহিনীতেও পুলিশ বাহিনী অফুরন্ত ধৈর্য ধরায় দেশবাসী খুশী হইয়াছে। না হয় পুলিশ এই আগুন-লাঠির কবলে পড়িলে গুলি ঝড়া কোনো ব্যাপার ছিল না। তাহতে তাহারা লাশ পাইতো। ভোট লইয়া কিরিনজালি শুরু হইয়া যাইতো।
আর যাহাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তাহা নির্বাচন কমিশনার হুদা চাচাকে কহিয়া দিবেন।
আমাদের ধর্মপুরের মতিন দারোগায় কহে, যুক্তফ্রন্ট, ঐক্যফ্রন্ট এগুলা কোনো বিষয় নহে। আপনি সিট দেন নাই বলিয়া তাহারা অন্য জায়গায় দাপো বান্ধিয়াহাতীতে চড়িয়াছে। কাদের সিদ্দিকী, রব, মান্না সকলেই একখানা করিয়া আসন চাহিয়াছে মাত্র। আপনি তাহাদের আর্তনাদ শোনেন নাই।
আজ দেখা যাইতেছে, পোপের চাইতেও বড় খ্রিস্টান তাহারা। মান্না মিয়াতো চিৎকার দিয়া কহিলেন, খালেদা বিবির জন্য জান দিবেন। বিএনপি নেতারাও এই ভাষায় কথা কহেন না। তয় অমুক্তিযোদ্ধা ও এক সময়ের জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের নেতা মান্না আসল জায়গায় ঠিকই পৌঁছিয়াছে। রব আর কাদের সিদ্দিকী চাচার জন্য কামটা অন্য রকম ভেজাইল্যা হইয়াছে। জননীগো, নির্বাচন লইয়া রাম-শ্যাম-যদু-মধুদের আরও অনেক রকম ক্যারিকেচার হইতে পারে। যতটা জলদি পানেন এলেকশন করিয়া ফেলেন। ভাবে সাবে মনে হইতেছে, সারাদেশে ধানের শীষের সহিত আপনাকে লড়াই করিতে হইবে। লাঙ্গলওয়ালা এরশাদ চাচা নৌকা ছাড়া কতটা জিতিতে পারিবেন নাকি তাহাও ধানের শীষ খাইয়া ফেলিবে, তাহা বোঝা যাইতেছে না।
আপনার সরকারের এখন সয দেশে সুনাম। তামাম দুনিয়ার কথা ছিল। সব দল যেন নির্বাচনে আসে। এখন কোনো দল আর বাদ নাই। সুতা ব্যাপারির দলও ভোটে নামিয়া গিয়াছে। ইহাই আপনার বড় রকমের সফলতা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হইতে যাইতেছে। যাকে তাকে ভোটে নমিনেশন দেবেন না। নতুনদের অগ্রাধিকার দেন। নতুন ভোটারদের টানার জন্য ইশতেহার দেন।
এই দিনকেও বদল করিতে হইবে। নির্বাচনী ইশতোহারে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল, সড়ক আইন শক্তভাবে মানিয়া চলা, ডিজিটাল বাংলাদেশ কায়েম, সকল কাজ ই-মেইল করা, মোবাইল কল কি অর্ধেকে নামাইয়া আনা, বেসরকারি চাকরিতে পেনশনের ব্যবস্থা করা, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ ভাতা চালু, চাকরিতে সকল মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে দুই বছরের সিনিয়ারিটি দেওয়া, সকল স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা, প্রতিটি জেলা হেডকোয়ার্টারে মেডিকেল ও ইনজিনিয়ারিং কলেজ চালু, আবাসনের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরগুলোকে দ্বিগুণ প্রশস্ত করা, প্রশাসনিক দফতরসমূহ বিকেন্দ্রীকরণ, বিনা বেতনে কলেজে পড়ার ব্যবস্থা করা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি অর্ধেকে নামাইয়া আনা, মেডিকেল ভর্তি ফি ৫০ ভাগ হ্রাস করা ইত্যাদি যেন থাকে।
এইদিকে এডভোকেট মেজবাহ কহিতেছেন, মুক্তিযোদ্ধা ও তাহাদের সন্তানদের বিনা পরীক্ষায় আগের মতো এডভোটশিপে এনরোল করিবার সুযোগ দিতো। এটাতো কোনো চাকরি নহে, দেওয়ার ব্যবস্থা করিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি কখনো জিতিতে পারিবে না। বোর জনগোষ্ঠীর দিকে চাহিয়া জেলাভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়িয়া তোলা দরকার। এলাকার লোকজনের জেলায় জেলায় ৬০ ভাগ কোটা থাকা দরকার।
সরকারি সকল চাকরিতে ৫ ভাগ নারী, ৫ ভাগ জেলা ও ৫ ভাগ উপজাতি কোটা থাকা অপরিহার্য।
কেহ কেহ কহিতেছে সংসদে রিজার্ভ কোটায় নারী সদস্য হওয়া দরকার ৭৫ জন। বিষয়গুলো ভাবিয়া তারপর ইশতেহার ঘোষণা করেন।
জননীগো, মনোনয়নে যদি ভুল করেন, তাহা হইলে ঠিকই আছাড় খাইতে পারেন। আপনার ৭০ ভাগ এমপির নাম দেশবাসী শুননিতে পারে না। আপনি না আসলে ধপ করিয়া উন্নয়নের চাকা বন্ধ হইয়া যাইবে। পদ্মাসেতুও পরিত্যক্ত হইয়া যাইবে।
জননীগো, পাবলিককে বিদ্যুৎ, পানি বিলে কি পরিমাণ রিবেট দেওয়া যায়, সিটি, পৌরসভা ও ইউনিয়নের হোল্ডিং ট্যাক্স কিভাবে কমানো যায় বা কমের মধ্যে রাখা যায়, তাহারও ঘোষণা দিবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সব ট্যাক্স মওকুফের ঘোষণা দিয়া দিবেন।
নির্বাচনে আপনার অনুমোদন ছাড়া যেন কোনো পোস্টার, ব্যানার বা ভিডিও ছাড়া না হয়। ২০০১ সালে পোস্টার লইয়া নানা কাহিনী হইয়াছে।
নির্বাচন কমিশনকে পুরো শক্তি দিয়া দেন। সীমান্ত সিল করিয়া দেন। মিয়ানমার সীমান্ত করা নজরদারি করেন। আর ইন্টারনেট, অনলাইন তথা ফেসবুক, টুইটারসহ সকল সামাজিক নেটওয়ার্ক নজরদারিতে রাখেন। ডিজিটাল মিডিয়া আইনে যেন ভয়াবহ অ্যাকশন হয়।
নির্বাচনের ৭ দিন আগ হইতে ভাইবার, হোয়াইট আপ, ইমু, স্কাইপেসহ বিনে পয়সার ফোন-চ্যাটিং টোটাল স্টপ করিয়া দেওয়া ভালো হইবে। ফেসবুকে যেন বিদেশি একাউন্ট তখন ঢুকিতে না পারে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন হইলো, তখন বড়দিনের বন্ধ কোথায় ছিলো। কাহারা এইসকল উসিলা দিতেছে। একটা দুইটা বড় দল আছে, বাকি শত শত দলের খবর দেশবাসী জানে। ঘোড়ায় পৌঁছে না তারা হইয়াছে দলের চেয়ারম্যান।
বিদেশিরা যত আসিতে চায় আসিতে দেন। নির্বাচন কমিশন, উচ্চ আদালত ও প্রশাসন যেন কঠিন রকমের অবস্থানে থাকে। শুনিতেছি খালেদা বিবির জন্যও ফরম কেনা হইয়াছে। ভালো কথা দুই মামলার ১৭ বছর সশ্রম কারাদ- যদি আদালত স্থগিত করিয়া দেয়, তাহইলে এলেকশন করিবেন। ওয়ান-ইলেভেনের ক্যাঙ্গারু কোর্টের সাজা তখন আদালত স্থগিত বা বাতিল করিয়াছে। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের পর যেই রায় তাহাও কি সেইভাবে স্থগিত হইবে?
সাজাপ্রাপ্ত অনেক নেতার সাজা আদালত স্থগিত করিয়াছে। শোনা যায়, দুদক এই নেতাদের অনেকের জন্য আদালতে যাইতেছে। সেই যাহাই হউক যাহাতে চাইরে-ডাইলে উতরাইয়া খাট্টা হইয়া না যায়। শেষবারের মতো কহি আপনার এমপিদের ১৫০ জন অন্তত অপ্রিয় এলাকায়। কথাটা মনে রাখিবেন। বিশেষ কি। ইতি-

আপনারই ৬৮ হাজার গেরামের নালায়েক নাখান্দা অধম
গেদুচাচা
গ্রন্থনা : খ. ম. হ. তাং ১৭ নভেম্বর-২০১৮