গ্রিড বিপর্যয় : বরখাস্ত হওয়া পিজিসিবির ২ প্রকৌশলীর নাম প্রকাশ

আল্লামা হাসান বখতিয়ার ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান -সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিপর্যয়ের ঘটনায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- পিজিসিবির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসপিএমডি, ঢাকা-১) আল্লামা হাসান বখতিয়ার এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (এসপিএমডি, ঢাকা-১)।

১৬ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় পিজিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই দুই কর্মকর্তার একজন পিজিসিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী, অপরজন সহকারী প্রকৌশলী পদমর্যাদার। তবে সে সময় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে বলেন, ৪ অক্টোবর ব্ল্যাকআউটের ঘটনায় মোট তিনটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে পিজিসিবির তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী এ দুই কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রবিবার থেকেই তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অন্য তদন্তে আরও যারা জড়িত তাদের নামও বেরিয়ে আসবে। তখন তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিপর্যয়ের কারণে ৪ অক্টোবর একযোগে দেশের একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তবে এরপর থেকে লোডশেডি বেড়েছে।

গত শুক্রবার রাতে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, ‘গ্রিড বিপর্যয়ের পেছনে কারিগরি নয়, মূলত ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ছিল। এ জন্য দায়ী সঞ্চালন কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘পিজিসিবি ম্যানেজমেন্ট করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। যার কারণে ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটে। সেদিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা (ডিমান্ড) বেশি ছিল। ডেসকো থেকে তাদের বলা হয়েছিল যে, তোমরা কাটডাউন কর, নইলে বাধাগ্রস্ত হবে। কিন্তু তারা শুনেনি। বলা হয়েছিল, এটি না করলে ফ্রিকোয়েন্সি আরও ওপরে উঠে গিয়ে ক্র্যাশ করবে। বাস্তবেও তা-ই হয়েছে। ওরা কথাটা শোনেনি, কন্টিনিউ করেছে। একপর্যায়ে ব্ল্যাকআউট হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৭ সালে গ্রিড বিপর্যয়ে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল দেশের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩২ জেলা। গত মাসে গ্রিড বিপর্যয়ে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল অঞ্চল ৪০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। এর আগে ২০০২, ২০০৭ ও ২০০৯ সালেও গ্রিড বিপর্যয়ের বড় ঘটনা ঘটে।

ঠিকানা/এসআর