গ্রেফতার ৬৫ হাজার প্রাণ গেছে ৬৭ জনের

মাদকবিরোধী অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি : মাদকবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৬৭ জন মাদক ব্যবসায়ী, মাদক পাচারকারী ও তাদের চক্রের অস্ত্রধারী-নিরস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৫ হাজার জনকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হবে। মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসা নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছে। তারা মনে করে, মাদকবিরোধী অভিযানে হতাহতের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে ঘটলেও তাতে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছে। দেশের মানুষ মাদকের সর্বনাশা অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়। মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারীদের পেছনে শক্তিশালী চক্র রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী মহল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের গোপন যোগাযোগও রয়েছে।

রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক যত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই জড়িত থাকুন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চতর পর্যায় থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকারই দুই শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন। কয়েকজন এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্যও রয়েছেন।

মাদক চোরাকারবারীদের সঙ্গে এদের পরোক্ষ, ক্ষেত্র হিসেবে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর শতাধিক সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা মাদকাসক্ত ও পাচারকারীদের সহযোগিতা করে থাকে। এদের এরই মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন, কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সুবিধামতো সময়ে তারা আবার সক্রিয় হতে পারে। সেজন্য তাদের মুভমেন্ট, যোগাযোগ সতর্ক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার এলাকার অনেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের অফিসে, বাড়িতে হানা দেওয়া হচ্ছে।