চট্টগ্রামে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১৫, গ্রেপ্তার ২০

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : চট্টগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ার শেল এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে আধঘণ্টা ধরে। পরবর্তীকালে পুলিশের বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এতে পুলিশসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। পুলিশ ঘটনাস্থল ও বিএনপির কার্যালয় থেকে ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির। ঘটনার পর বিএনপির কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশের একটি দল।

দুই পক্ষের হাঙ্গামায় ট্রাফিক পুলিশের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া ফুটপাতের ওপর নির্মাণ করা পুলিশের সার্ভিস সেন্টার ও ট্রাফিক বক্সের কাচও ভাঙচুর করা হয়। টাইলসের দোকানের বাইরে রাখা টাইলস ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলামের মোটরসাইকেল ভাঙচুরের শিকার হয়। ঠিক কী কারণে হাঙ্গামা হয়েছে, তার বিষয়ে পুলিশ ও বিএনপির পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন অন্য কথা।

কোতোয়ালি থানা-পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নাসিমন ভবনের দিকে আসার সময় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল থেকে আচমকা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়। এ সময় সংঘাত বেধে যায় উভয় পক্ষে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী জানান, কাজীর দেউড়ি মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে যুবদলের মিছিলকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে হামলা শুরু করা হয় বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল নিয়ে নাসিমন ভবনের দিকে যাওয়ার সময় একটি মিছিলকে থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় উভয় পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে সেটা ঘণ্টাব্যাপী সংঘাতে রূপ নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, সংঘর্ষে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান, টিআই বিপ্লব সরকারসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আধঘণ্টার জন্য পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ কাজীর দেউড়ির আশপাশে অভিযান শুরু করে বিএনপির ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। এ ছাড়া জেলা পুলিশের একটি গাড়ি রেডিসন ব্লুর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেন। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মিছিল করে আসার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ২০ জনের মতো আটক করা হয়েছে। অভিযান চলছে।’

এ বিষয়ে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ করছিলাম। পুলিশ ইচ্ছে করেই কাজীর দেউড়ি মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেয়েছে। আমাদের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার পর এ-সংক্রান্তে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানালেন কোতোয়ালি থানার ওসি জাহেদুল কবির।

ঠিকানা/এনআই