চট্টগ্রাম-১৪ : আ’লীগ-বিএনপিতে তরুণদের প্রাধান্য

চট্টগ্রাম : চন্দনাইশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা এবং সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থীরা গণসংযোগের পাশাপাশি মনোননয়ন নিয়ে হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। আসনটি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের আসন হিসেবেই পরিচিত ছিল।

সাতবারের নির্বাচিত এমপি কর্নেল (অব.) অলি ৫ বছর ধরে ক্ষমতায় বাইরে। ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৬ ভোটার অধ্যুষিত চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও অলি ৮২ হাজার ৩৬ ভোট পেয়ে এমপি হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমেদ পান ৬১ হাজার ৬৪৬ ভোট। বিএনপির মিজানুল হক চৌধুরী পান ৩৩ হাজার ৩৩৫ ভোট। সবশেষ ২০১৪ সালে এলডিপি ও বিএনপিবিহীন ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী। আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দীনের ছেলে বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দীন আহমদ আসিফ ও চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার মোহসিন জিল্লুর করিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী। এলডিপির একক প্রার্থী হচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম), জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ জ ম অলি উল্লাহ চৌধুরী মাসুদ ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চন্দনাইশ উপজেলা সভাপতি এ কে এম বাদশা মিয়া। সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ।

আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা প্রার্থী এ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন। বিশেষ করে নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের ভোটে বিএনপির কর্নেল (অব) অলি এমপি হন এবং পান যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও কর্নেল অলি চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া অর্থাৎ চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে এমপি হন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি রেখে চট্টগ্রাম-১৪ ছেড়ে দেন। পরে উপনির্বাচনে ওই আসনে এমপি হন অলিপতœী মমতাজ অলি। ২০০১ সালের নির্বাচনেও কর্নেল অলি এমপি হন। তবে ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপি গঠন করেন। ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এলডিপি থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন কর্নেল অলি। পরের দফায় তিনি বিএনপির সঙ্গে ভোট বর্জন করেন।

আওয়ামী লীগ : এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইব। এমপি হওয়ার পর চন্দনাইশ সাতকানিয়ার দুঃখ সাঙ্গু নদীর ভাঙন রোধে ২৩০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আরও ৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। তা ছাড়া এলাকাটি সন্ত্রাস এবং মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করেছি। মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান এবং রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ফের নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী বলেন, বর্তমান এমপির সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি নিজেও সামাজিক কর্মকা-ে জড়িত। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। পেলে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব।’

ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চন্দনাইশ বিএনপির ঘাঁটি ছিল। এখানে আওয়ামী লীগের অবস্থান গড়ে তুলেছেন আমার বাবা। দলের দুঃসময়ে বিএনপির এ শক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেন তিনিই। বিগত নির্বাচনে তিনি অসুস্থ থাকায় আওয়ামী লীগের আরেকজন মনোনয়ন পেয়েছেন। আমি চাই, দল সংগঠিত হোক। এ লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। অসুস্থ থাকায় বাবা যদি নির্বাচন না করেন, তাহলে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল মনোনয়ন দেবে।’

মফিজুর রহমান বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছি। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় দলকে একটা পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি। মনোনয়নের বিষয়টি দল বিবেচনা করবে বলে আশা রাখি।’ জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য, শেখ হাসিনার ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন। দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। দল যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে এবং নির্বাচন করব।’

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) : দলের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত চন্দনাইশ থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি। রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ করে পুরো চন্দনাইশকে অনেক আগেই উন্নত এলাকায় পরিণত করেছি। অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছি। জনগণের কাছ থেকে প্রতিদানও পেয়েছি। সুষ্ঠু ভোট হলে আগামী দিনেও জনগণ আমাকে ভোট দেবেন।’ তবে কর্নেল (অব.) অলি কোনো জোট থেকে নির্বাচন করবেন নাকি এলডিপি একাই নির্বাচন করবেÑ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। জোটের হিসাব-নিকাশের পরই পরিষ্কার হবে কোন পথে কর্নেল অলি।

বিএনপি : দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. মোহসিন জিল্লুর করিম বলেন, খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্র করে আটকে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তবেই বিএনপি তাতে অংশ নেবে। তখন চন্দনাইশ থেকে মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন পেলে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট : এলাকায় দলের অবস্থান তুলানামূলক ভালো। সম্মিলিত জাতীয় জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, ‘ইসলামী ফ্রন্ট মোমবাতি নিয়ে এর আগে তিনবার চন্দনাইশ-সাতকানিয়া থেকে নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে কমপক্ষে ৩টি আর সম্মিলিতি জাতীয় জোট আলাদা নির্বাচন করলে সারা দেশে ৭৪টি আসনে প্রার্থী দিতে চাই। তবে চন্দনাইশ থেকে আমি নির্বাচন করব।’