চার বছর গত হয়েছে…

মোকাম্মেল হোসেন
খুবই ক্রিটিক্যাল মুহূর্ত। নায়িকার বাপ জমিদার। তিনি কৃষকপুত্রের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেম মেনে নিতে রাজি নন। জমিদার সাহেব গুলিভর্তি দো’নালা বন্দুক মেয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। কর গুলি, মাইরা ফেলা জাতীয় একটা অবস্থা। নায়িকা নায়িকা বেচারি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তার একপাশে জন্মদাতা বাপ। অন্যপাশে প্রেমাষ্পদ। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে নায়িকা কিছু একটা বলার জন্য ঠোঁট ফাঁক করেছে, এমন সময় ময়মনসিংহগামী বলাকা এক্সপ্রেসের খবর হলো।
স্টেশন-সংলগ্ন আরজ আলীর চায়ের স্টলে টেলিভিশনের সামনে বসা লোকমানের মনে হলো, এ করম একটা মুহূর্তে ট্রেনের খবর না হয়ে যদি হজরত আজরাইল (আ.) তার সামনে এসে দাঁড়াতেন, তাহলে সে অবশ্যই বলতÑ
: হুজুর মেহেরবান। সিনেমার এই প্যাথেডিক সিনটা শেষ হোক। তারপর আপনের মন চাইলে একবার না, দশবার আমার জান কবজ করলেও আমার তরফ থেইকা নো অবজেকশন। আল্লাহর কিরা।
কিন্তু যে ট্রেন হাওয়ার গতিতে স্টেশন অভিমুখে ছুটে আসছে, লোকমান সেটাকে নিরস্ত করবে কিভাবে? উপায়হীন লোকমানকে তাই উঠে দাঁড়াতে হলো। এখন তাকে যেতে হবে প্লাটফরমের দক্ষিণ প্রান্তে, বাইক্কা মিয়ার হোটেলে। সেখানে এনামেলের বড় একটা পাত্রে তেলে ভাজা সিঙ্গারা, পেঁয়াজো স্তূপ করে রাখা আছে। ট্রেন এসে স্টেশনে দাঁড়ানো মাত্র লোকমানকে সেগুলো বিক্রির ধান্ধা করতে হবে।
লোকমানের দিন শুরু হয় ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেন দিয়ে। এরপর দিন ও রাতে একে একে অনেকগুলো ট্রেন গফরগাঁও স্টেশনে থামে। কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতি শেষে হুইসেল বাজিয়ে আবার চলেও যায়। লোকমানের কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। রাতের ব্রক্ষ্মপুত্র এক্সপ্রেস গফরগাঁও স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর তবেই তার মুক্তি মেলে। এর আগে দুপুরের দিকে আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস গফরগাঁও স্টেশনে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি শেষে তারাকান্দির উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পর ঘণ্টা দুয়েক সময় পাওয়া যায়। এর মধ্যে গোসল-খাওয়া শেষ করে হোটেলের পেছনে রাখা চৌকিতে একটু কাত হয় লোকমান। রেলস্টেশন জামে মসজিদ থেকে আসরের আজান ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছেড়ে খাবারের পাত্র হাতে প্রস্তুত হতে হয় তাকে।
সময়ের সুতায় বাঁধা এ নিয়ম মেনে লোকমানের জীবনস্রোত প্রবাহিত হচ্ছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। এ পর্যন্ত কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। আজ ব্যতিক্রম ঘটল। হোটেলের বাবুর্চি জলিলের সঙ্গে লোকমান তুমুল মারপিটে জড়াল। আসরের নামাজ শেষে হোটেলে এসে মারপিটের রহস্য উদঘাটনের পর বাইক্কা মিয়া লোকমানের উদ্দেশে বললেনÑ
: তুই তো দেখতেছি তর চাচার মতোই কঠিন আওয়ামী লীগ!
বাইক্কা মিয়ার কথা শুনে লোকমানের বুক গর্বে ১০ ইঞ্চি ফুলে উঠল। দেশে বেশুমার আওয়ামী লীগার। কিন্তু তার চাচার মতো ‘কঠিন’ আওয়ামী লীগার কয়জন আছে? তার চাচা মরহুম হাসমত আলী পরের বাড়িতে কামলা খেটে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ফাঁকে-ফুকে টুকটাক ব্যবসাও করেছেন। তার সম্বল বলতে ছিল কেবল বাড়িভিটার সাড়ে ছয় শতাংশ জমি। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের বিভীষিকাময় রাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্য নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর হাসমত আলী যখন শুনলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা জীবিত আছেন; তিনি দেরি না করে জেলা সদরে চলে গেলেন। বাড়িভিটার জমিটুককু বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ের নামে হেবা মূলে দলিল রেজিস্ট্রি করে দিলেন। এ ব্যাপারে মরহুম হাসমত আলীর বক্তব্য ছিল অনেকটা এ রকমÑ
: নব্য মীরজাফরদের ভয়ে বাংলাদেশের একজন মানুষও যদি পিতাহারা, মাতাহারা, ভাইহারা, স্বজনহারা অনাথ দু’বোনকে আশ্রয় দিতে রাজি না হয়, তবে তার বাড়ির আঙিনা, তার কুঁড়েঘর এতিম-অসহায় দু’বোনকে আশ্রয় দেবে পরম মমতায়; গভীর ভালোবাসায়…
বাইক্কা মিয়া লোকমানের আবেগ অনুধাবন করে তাকে কিছু বললেন না। রাগ ঝাড়লেন বাবুর্চি জলিলের ওপর। বললেনÑ
: পুঙ্গির পুত জইল্যা! তর কাম হইল চুলার মধ্যে লাকড়ি ঢুকানো, তুই রাজনীতির মধ্যে হাত ঢুকাইতে গেছস কোন কামে? চুলায় লাকড়ি না ঠেললে আওয়ামী লীগ কি তরে ভাত দেবো, না বিএনপি আইসা তর বেতন দেবো?
রাজনীতি সরাসরি জনগণের পাতে ভাত কিংবা পকেটে টাকা তুলে দেয় না, এ কথা সত্য। তবে মানুষের ভাতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়েই রাজনীতি অগ্রসর হয়। লোকমান, জলিল অথবা বাইক্কা মিয়ার মাথায় এসব জটিল বিষয় ঢোকার কথা নয়। সে চেষ্টাও তারা করে না। তাদের সমীকরণ খুবই সরল ও সহজ। এ সমীকরণে মোটা দাগে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকা-, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান প্রাধান্য পায়। আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে তিন দিন ধরে স্টেশনের হোটেল-দোকানপাট ও স্টেশনে থেমে থাকা ট্রেনের কামরায় যাত্রীদের কথাবার্তা হচ্ছে। সে যখন কারও মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসা শুনেছে, বেজায় উৎফুল্ল হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র, সুশাসন, ভোটের অধিকার ইত্যাদি প্রশ্নে কেউ যখন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেছে, শুনে লোকমানের মুখে কালো ছায়া পড়েছে।
গণতন্ত্র, সুশাসন, ভোটের অধিকারÑ এসব বিষয় লোকমান বোঝে না; সে শুধু বোঝে আওয়ামী লীগ। তবে বিষয়গুলো বোঝা দরকার। এ জন্য সে এক দিন দুপুরের আরাম হারাম করে ইউসুফ মাস্টারের শরণাপন্ন হলো। ইউসুফ সাহেব স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। গণতন্ত্র সম্পর্কে লোকমানকে জ্ঞান দিতে গিয়ে সহজ ভাষায় তিনি বললেনÑ
: গণতন্ত্র হইল এমন একটা জিনিস, এইটা বজায় থাকলে তুমি স্বাধীনভাবে তোমার কাজকর্ম করতে পারবা।
ইউসুফ মাস্টারের কথা শুনে লোকমান খুবই অবাক হলো। এটাই যদি গণতন্ত্র হয়, তাহলে মানুষ কেন খামাখা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করছে? সে তো তার সব কাজকর্ম স্বাধীনভাবেই সম্পন্ন করছে! লোকমান বললÑ
: ছার! আমি তো স্বাধীনভাবেই সব কাজকাম করতেছি। যখন ঘুম পাইতেছে, ঘুমাইতেছি। গোসলের টাইমে গোসল করতেছি। ক্ষিদা লাগলে খাইতেছি। তলপেটে চাপ দিলে বদনা লইয়া টাট্টিখানায় ঢুকতেছি। কই, কেউ তো বাধা দিতেছে না! তাইলে মানুষ গণতন্ত্র-গণতন্ত্র কইরা আওয়ামী লীগরে কি জন্য দোষী বানাইতেছে?
ইউসুফ মাস্টার কোনো জবাব দিতে পারলেন না। তিনি লোকমানের কাছে গণতন্ত্রের যে সংজ্ঞা পেশ করেছেন, লোকমান সেভাবেই তার উত্তর সাজিয়েছে। গণতন্ত্রের এরচেয়ে সমৃদ্ধ ও উন্নত সংজ্ঞা ইউসুফ মাস্টারের জানা নেই। ইউসুফ মাস্টারের মুখের দিকে চেয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে লোকমান জিজ্ঞেস করলÑ
: সুশাসন মানে কী?
: সুশাসন মানে হইল ভালো শাসন।
: অঃ। এইবার আমারে বলেন, আওয়ামী লীগ কোন দিক দিয়া খারাপ শাসন করতেছে?
ইউসুফ মাস্টার এরও কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না। লোকমান তার সর্বশেষ বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করলÑ
: ভোটের অধিকার কারে কয়?
ভোটের অধিকার প্রশ্নে এত দিন ধরে ইউসুফ মাস্টার যা শুনে আসছেন, সেটাই উগরে দিলেন। বললেনÑ
: ভোটের অধিকার মানে হইলÑ আমার ভোট আমি দেবো, যারে খুশি তারে দেবো।
লোকমান আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে বললÑ
: কাহিনী তাইলে এইটা! এর মধ্যেও তো আমি বেতাল কিছু দেখতেছি না! গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার ভোট অন্য কেউ দেয় নাই; আমার ভোট আমিই দিছি। কেউ সামনে আইসা বলে নাই, অমুকরে তুমি ভোট দিতে পারবা না!
ইউসুফ মাস্টার লোকমানের যুক্তি মেনে নিলেন। বললেনÑ
: বুঝলা লোকমান, নানা মুনির নানা মত। একেকজন একেকভাবে চিন্তা করে। তারপর সেই চিন্তার প্রকাশ ঘটায়। এই হইল ঘটনা।
লোকমান এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। সে লেখাপড়া জানা ‘শিক্ষিত’ একজন মানুষকে যুক্তি-তর্কে হারিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগকে কলংকমুক্ত করেছে। এই আনন্দে তার উড়তে ইচ্ছে করছে।
রাতের ব্রক্ষ্মপুত্রকে বিদায় করে লোকমান দেরি করল না। নতুন একটা সিনেমা দেখার আশায় আরজ আলীর চায়ের দোকানে হাজির হলো। আরজ আলীর চায়ের দোকানে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা নিষিদ্ধ। ক্যাশ-কাউন্টারের উপরে বড় বড় অক্ষরে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দেয়া হয়েছেÑ রাজনৈতিক আলোচনা নিষেধ। আজ এ নিষেধ কোনো কাজে আসছে না। টেলিভিশনের একটা চ্যানেল এ সময় একজন কণ্ঠশিল্পীর গানের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করছিল। আরজ আলী দেখল, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে চিকন পথে হাঁটতে হবে। সে টেলিভিশনের আওয়াজ বাড়িয়ে দিলো। আলোচনা ছাপিয়ে শিল্পীর কণ্ঠ হঠাৎ ‘ফাইট্যা যায়Ñ বুকটা ফাইট্যা যায়’ বলে সরব হতেই এক তরুণ লাফ দিয়ে উঠল। গরম মেজাজে আরজ আলীর উদ্দেশে বললÑ
: আরে মামা! একটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলতেছে, আর আপনে ফাটাফাটির মধ্যে ঢুইক্যা পড়লেন? গান বন্ধ করেন।
আরজ আলী শুনেও না শোনার ভান করল। তরুণ পুনরায় বললÑ
: কী হইল, কথা কানে যায় না? বললাম না গান বন্ধ করতে!
আরজ আলীও গফরগাঁয়ের পোলা। হুমকি-ধমকি পাত্তা না দিয়ে রূঢ় গলায় সে বললÑ
: গান কি আমি গাইতেছি?
তরুণের গলার স্বর নরম হলো। সে অনুরোধ জানিয়ে বললÑ
: আইচ্ছা ঠিক আছে! গান বন্ধ করার দরকার নাই। আপনে দয়া কইরা টেলিভিশনটা বন্ধ করেন।
উপস্থিত তরুণরা তিন দলে বিভক্ত। দল তিনটির মধ্যে এক দল ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী। এক দল বিরোধী শিবিরের। এর বাইরে তৃতীয় দলটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়। এরা মনোযোগ দিয়ে উভয়পক্ষের কথা শুনছে এবং বাতাস বুঝে ছাতা ধরছে। হইচই ও হট্টগোলের মধ্যে সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের এক নেতা সবাইকে খামোশ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতার ঢঙে বলে উঠলÑ
: কেউ স্বীকার করুক, আর না করুক-সরকারের চার বছরের শাসনকাল সামনে রাইখা আমি শুধু…
পাশ থেকে একজন সংশোধনী দিয়ে বললÑ
: চার বছর না, ৯ বছর। বাকি সময় পার কইরা ইনশাআল্লাহ আবারও ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসব। হ্যাটট্রিক…
এ কথার সূত্র ধরে আরেকজন বক্তা বললেনÑ
: হুম। সরকারের ৯ বছর, দ্বিতীয় মেয়াদে সাফল্যের চার বছর গত হওয়ার গৌরবময় বিষয়টারে আমি এইভাবে ব্যক্ত করতে চাইÑ উত্তর থেইকা দক্ষিণ, পূর্ব থেইকা পশ্চিমÑ যেদিকে তাকাই না কেন, শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন! আকাশ থেইকা ভূমিতে, নদী থেইকা সমুদ্রেÑ শুধু আমাদের সাফল্য আর সাফল্য! একটু আগে হঠাৎ গানের উদাহরণ দিয়া আমি সুস্পষ্টরূপে বলতে চাইÑ আমাদের সাফল্য ও উন্নয়ন যাদের সহ্য হইতেছে না; তারাই কেবল ফাইট্যা যায়, বুকটা ফাইট্যা যায় বইল্যা চিঁ-চিঁ করতেছে।
তুমুল করতালি ও হট্টগোলের মধ্যে বিরোধী শিবিরের এক তরুণ ফ্লোর নিতে সক্ষম হলো। সে উপস্থিত সবার প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করল। প্রতিপক্ষের উদ্দেশে সে বলতে লাগলÑ
: আপনেরা উন্নয়নের কথা বলছেন, সাফল্যের কথা বলছেন। উন্নয়ন ও সাফল্য অবশ্যই আছেÑ আমরা সেইটা অস্বীকার করি না। কিন্তু কিসের বিনিময়ে এই উন্নয়ন? কিসের বিনিময়ে এই সাফল্য? বাংলাদেশ কথিত উন্নয়নের ফাঁদে আটকা পড়ছে কি না, বর্তমানে এই কথাটা ভাবা অতি জরুরি হইয়া পড়ছে।
সরকার মানুষের ঘামে-শ্রমে অর্জিত প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি লইয়া উল্লাস করে। অথচ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক দল ডাকাইত বসাইয়া রাখা হইছে। তারা জনগণের কষ্টার্জিত আমানত লুইট্যা-পুইট্যা খাইতেছে। এইটারে কি সুশাসন বলে? সরকার বলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি মোকাবেলাসহ যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলা করতে সক্ষম। অথচ নাশকতার অজুহাত তুইলা সরকার বিরোধী দলকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিং করতে দিতেছে না। এইটার নাম কি গণতন্ত্র?
চায়ের দোকানে এক ধরনের গুমট ভাব বিরাজ করছে। আরজ আলী দেখল লক্ষণ ভালো নয়, ঝড়ের পূর্বাভাস। এর আগেও রাজনৈতিক হই-হট্টগোলে তার দোকান ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। স্টেশনের চায়ের দোকানগুলো টেলিভিশন ছাড়া অচল। মাত্র কিছুদিন আগে সে কিস্তিতে নতুন একটা রঙিন এলইডি টেলিভিশন কিনেছে। এখন যদি ভাঙচুর শুরু হয়, তাহলে তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে যাবে। সে তাড়াতাড়ি সহকারীর উদ্দেশে বললÑ
: ওই হারুইল্যা; দুধ-চিনি বেশি কইরা দিয়া সবাইরে চা দে…
লোকমানের মাথায় এসব সূক্ষ্ম বিষয় ঢুকছে না। সে সর্বশেষ বক্তা ও ইউসুফ মাস্টারের কথার মধ্যে ফারাক খুঁজতে গিয়ে কেবলই দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভাবছে, সে এখন কার কথা বিশ্বাস করবে?
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক