চা শ্রমিকদের ‘বড় দুঃখ’

প্রণবকান্তি দেব : সিলেটসহ সারাদেশের চা শ্রমিকদের মনে বড় ‘দুঃখ’। দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলে আসলেও কোনো সুখবর নেই। কর্মবিরতি আর মিছিল, মিটিং এ কাটছে তাদের দিন। থালায় চাল ও কচু আর শরীরে নানা স্লোগান লিখে প্রতিদিন ‘ভুখামিছিল’ করছেন চা-শ্রমিকেরা। ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত; দালালির চুক্তি, মানি না মানব না’, ‘৩০০ টাকা মজুরি দে, নাইলে বুকে গুলি দে’, ‘প্রতারণার চুক্তি, মানি না মানব না; ২০-২৫ মানি না, ৩০০ ছাড়া বুঝি না’ – এসব শ্লোগান বুকে, পিঠে লিখে নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার আওয়াজ তুলছেন তারা।
সরকার, প্রশাসন, শ্রমিক নেতা- নানা পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক, নানা আশ্বাস দেয়া হলেও কার্যত নিরসন হচ্ছে না অচলাবস্থার। বরং একের পর এক বিভ্রান্তিকর সংবাদে কপালের ভাঁজ বেড়েই চলছে তাদের। অন্যদিকে, দাবি আদায় না হওয়ার আগ পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেট ও হবিগঞ্জের চা-শ্রমিকরা।
সর্বশেষ জানা গেছে, সিলেট ভ্যালির ২৩টি বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতাদের সঙ্গে গত ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। একই সিদ্ধান্তে অনড় হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালির শ্রমিকরাও। চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা জানিয়েছেন, ‘গত ২১ আগস্ট রোববার মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে আশ্বাস দেয়া হয়, ভারত সফর শেষে ফিরে প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলে নতুন মজুরি নির্ধারণ করে দেবেন।
‘এই আশ্বাসে ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মান প্রদর্শন করে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকরা মানেননি। তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে সিলেটের শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন না।’
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীতের দাবিতে চলতি মাসের শুরু থেকেই আন্দোলনে নামেন দেশের ১৬৬ চা বাগানের দেড় লাখের বেশি শ্রমিক। ৯ আগস্ট থেকে ৪ দিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এরপর গত ১৩ আগস্ট থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এর মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তা সমাধান হয়নি। আন্দোলনরত শ্রমিকরা কয়েক দিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কও অবরোধ করেন।
এদিকে, চলমান আন্দোলনের সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসছে দীর্ঘকাল ধরে চা শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপনের গল্প। সচেতন মহলেরও দাবি, নায্যতার ভিত্তিতে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি হউক, দ্রুত হেঁসে উঠুক সবুজ কুঁড়ির আঙিনা।