চীনে ‘ডেটিং লিভ’ পাচ্ছেন ত্রিশোর্ধ্ব নারীরা

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : চীনে নতুন চন্দ্র বছর উদযাপন করতে ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। তবে সৌভাগ্যবতী ৩০ বছরের বেশি বয়সী নারীরা। নিয়মিত ছুটির সঙ্গে আরও আট দিন বাড়তি পাচ্ছেন তারা। জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে তাদের এ সুযোগ দিচ্ছেন নিয়োগদাতারা।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের পূর্বাঞ্চলীয় হাংঝুর দুটি কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের এই অতিরিক্ত ‘ডেটিং লিভ’ বা প্রেম করার ছুটি দিচ্ছে। এর আগে ওই শহরেই অবিবাহিত স্কুলশিক্ষিকাদের একই ধরনের ‘লাভ লিভ’ দেওয়ার খবর বেরিয়েছিল।

চীনে তিরিশের কাছাকাছি বয়স হওয়ার পরও অবিবাহিত থাকলে নারীদের তাচ্ছিল্য করা হয়। তাদের ‘শেং নু’ (বাতিল কিংবা বাদ পড়া মেয়ে) বলা হয়। ক্যারিয়ারে মনোযোগী দেশটির অনেক নারীকে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।

চীনা নারীদের এ বিষয়টি নিয়ে ‘লেফটওভার উইমেন’ ও ‘বিট্রেয়িং বিগ ব্রাদার : দ্য ফেমিনিস্ট অ্যাওয়াকেনিং ইন চায়না’ নামে দুটি বই লিখেছেন লেটা হং ফিনচার। তার মতে, ২৫ বছরের পরও অবিবাহিত নারীদের ‘লেফটওভার ওমেন’ বা বাতিল নারী বলে প্রচারের পেছনে সুপরিকল্পিত সরকারি প্রচার কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে শিক্ষিত নারীদের বিয়ে করে সন্তান গ্রহণের দিকে ঠেলে দিতে সরকারি চেষ্টার অংশ এটি।’

২০১৫ সালে চীন তার এক সন্তান নীতি পরিত্যাগ করে। এরপরও দেশটিতে জন্মহার কমছে। ২০১৩ সালের পর থেকে প্রতি বছর বিয়ের হারও কমছে। ২০১৮ সালে চীনে দেড় কোটির বেশি শিশু জন্ম নেয়। আগের বছরের তুলনায় এটি ছিল ২০ লাখ কম।