চেংদু কনস্যুলেট ছাড়লেন মার্কিন কর্মকর্তারা

ওয়াশিংটন-বেইজিং বিরোধ
ঠিকানা ডেস্ক : চীনের চেংদুতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট থেকে সব কর্মী প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দিতে হয় বেইজিংকে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই অস্থিরতা শুরু হয় বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ২০১৮ সালের মার্চ থেকে একে অন্যের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসানো শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের কারণে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চীনের বিরুদ্ধে ‘মেধা চুরির’ অভিযোগ করে আসছে তারা।
এর মধ্যে গত ২১ জুলাই টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত চীনা কনস্যুলেট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া চীনও নির্দেশ দেয় যে চেংদুতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয় গত ২৭ জুলাই।
বিবিসির খবরে বলা হয়, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই গ২৭ জুলাই মার্কিন কর্মকর্তারা চেংদু কনস্যুলেট ভবন ত্যাগ করেন। সরিয়ে ফেলা হয় কনস্যুলেটের নামফলক। নামিয়ে ফেলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। মার্কিন কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর চীনের স্থানীয় অনেক বাসিন্দা কনস্যুলেট ভবনের সামনে জড়ো হয়। তাদের অনেকের হাতেই চীনের পতাকা ছিল। অনেকেই আবার ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফিও তোলে। ভবনটির আশপাশে সকাল থেকে চীনা পুলিশের উপস্থিতি ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাদের কর্মকর্তারা সেখানে প্রবেশ করবেন এবং ভবনটি দখলে নেবেন। কৌশলগত দিক থেকে চেংদুর ওই কনস্যুলেট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিব্বতসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য ১৯৮৫ সালে কনস্যুলেট ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘তিব্বতসহ চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চেংদুর ওই কনস্যুলেট। আমরা চীনের সিদ্ধান্তে খুবই হতাশ হয়েছি। তবে সম্ভাব্য অন্যান্য উপায়ে ওই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।’ দুই দেশের এই বাণিজ্যযুদ্ধের সঙ্গে সম্প্রতি আরো কয়েকটি ইস্যু যুক্ত হয়। করোনা মহামারি নিয়ে শুরু থেকেই একে অন্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আসছে।