চোখের উৎসে চোখকে খুঁজছি

শিখা সেন গুপ্তা :

চোখের উৎসে চোখকে খুঁজছি।
চোখের প্রশ্ন! তুমি কি আজও আমায় বাসো ভালো?
কনিষ্ঠ আঙুলের আলিঙ্গনের
খুনসুটিতে স্পর্শ তো হয় না দুজনার মধ্যে!
একই পৃথিবীতে আছি।
একই আকাশের নিচে আমাদের বসবাস।
তবুও কত নিয়ম মিলনের বেলায়!
নৈকষ্য সেই প্রেম অমলিন আছে।
শুধু পূর্ণতা পেয়েও পায়নি।
কাগজে-কলমে এক চুক্তির স্বাদ
পায়নি এক ছাদের নিচে।
পায়নি দীর্ঘ বাসের দালিলিক, নথির অনুমতি।
দিনের প্রথম ভাগ অবগাহন করতে চেয়েছিলাম তোমার চোখে।
আমার খোঁপার হাসনাহেনার সুরভি করতে চেয়েছিলাম তোমাকে।
লক্ষ তারার মেলায় হারাতে চেয়েছি তোমাকে নিয়ে।
নদীবক্ষে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে চেয়েছি তোমাকে নিয়ে।
সাগর সেচে ডুব দিয়ে মুক্তো এনে দিতে চেয়েছি তোমায়।
একটি তারা সাক্ষ্য হয়েছিল।
ঐ নীল আকাশটাকে টিপ করে পরতে চেয়েছিলাম ললাটে।
গোলাপের চাষ করে একটা সুগন্ধি গোলাপ তুলে রেখেছিলাম তোমায় ছোঁয়াব বলে।
বৈষ্ণবীর কাছ থেকে চেয়ে এনেছিলাম একটি রক্তজবা তোমার পায়ে অর্ঘ্য দেব বলে।
মহাকালের স্রোতে সব এলোমেলো হয়ে গেল।
হলো না দেওয়া, হলো না যাওয়া, হলো না ভাসা মধ্যাহ্নে সবুজের রাজ্যে।
পুরো জীবনটা ব্যর্থতার খাতায় আড় মুড়িয়ে লেপ্টে আছে।
আঁধার-কালো শাড়ির আঁচলে চোখের জল মুছে যাচ্ছি।
আর চোখের উৎসে চোখকে খুঁজছি।