চোখের সামনেই সব শেষ ফুটবলার সোহেল রানার

স্পোর্টস রিপোর্ট : স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার সাকরাইলে বেড়াতে এসেছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ফুটবলার সোহেল রানা। দুদিনের ছুটিতে বাড়িতে এসে সবার সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান। গত ২৫ নভেম্বর ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য গত ২৪ নভেম্বর নিজের মোটরসাইকেলে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। পথে সাভারের নয়ারহাট এলাকায় কোহিনূর গেটের সামনে ঘাতক ট্রাক তার সব শেষ করে দিলো। চোখের সামনেই তিনি হারালেন স্ত্রী ঝুমা ও তিন বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে। ইতোমধ্যেই ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৪ নভেম্বর সকালের দিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন সোহেল রানা। দুপুর সাড়ে ১২টায তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়ারহাট এলাকায় পৌঁছলে মহাসড়কে থাকা বালুতে মোটরসাইকেলটি পিছলে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যান স্ত্রী ও সন্তান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তে পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহেল রানার স্ত্রী তাসলিমা আফরিন ঝুমা (২২)। স্থানীয়রা আহতাবস্থায় সোহেল রানা ও তার ছেলে আবদুল্লাহ আফনানকে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক শিশু আবদুল্লাহকেও মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সোহেল রানাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু তাহের।
হাসপাতাল থেকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ নিয়ে আশুলিয়া থানায় যান সোহেল রানা। দুপুরেই থানা থেকে লাশ নিয়ে যান গ্রামের বাড়িতে। সেখানে পৌঁছলে এক হƒদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাড়িতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। সবার কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আর চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানের এ রকম মর্মান্তিক মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে আবোল-তাবোল বকছেন সোহেল রানা। তিনি অনেকটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান তার চাচাতো ভাই মুকুল হোসেন।
মুকুল হোসেন বলেন, ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর ক্লাব থেকে দুই দিনের ছুটি পেয়েছিলেন সোহেল রানা। এই সুযোগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে মায়ের হাতে শীতের পিঠা-পায়েস খাওয়ার উদ্দেশ্যে। গত ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতেন সোহেল রানা। বছর চারেক আগে তাসলিমা আফরিন ঝুমার সঙ্গে বিয়ে হয় তার।
সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ঘাতক ট্রাক কিংবা চালককে আটক করতে পারেনি। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদ হোসেন জানান, লাশ থানায় আনা হলেও স্বজনের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ দিকে ফুটবলার সোহেল রানার স্ত্রী-সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।