ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ফাতিমাকে খুনের পর কন্যা মানহরের উপর হামলা

ঠিকানা রিপোর্ট: পারিবারিক ঝগড়া-ঝাটি ও তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ক্রোধোন্মত্ত স্বামী জাওয়াড হুসাইন ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ফাতিমাকে খুনের পর নিজেদের ১৮ বছর বয়স্কা কন্যা মানহরকে গুরুতর আঘাত করেছে। কুইন্সের ফ্রেশ মেডোজের ৬৯ এভিনিউ এবং ১৯৫ লেইনের এপার্টমেন্টে এ অনাকাঙ্খিত হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে ১৮ জানুয়ারি জানা গেছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর ৫৭ বছর বয়স্ক জাওয়াদ হুসাইডনের বিরুদ্ধে ৪৪ বছর বয়স্কা স্ত্রী ফাতিমাকে খুন এবং কন্যা মানহরকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে খুন, ফেলনী অ্যাসল্ট এবং অস্ত্র দখলের রাখার ক্রিমিনাল অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে বলে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী রিচার্ড ব্রাউন জানিয়েছেন।
হাতের বাহুতে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত অষ্টাদশী কন্যা মানহর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় সেলফোনের সাহায্যে ৯১১ নম্বরে কল করে দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছিলেন বলে জানা যায়। অকুস্থলে পৌঁছার পর পুলিশ কর্মকর্তাগণ সামান্য আহত আক্রমণকারী জাওয়াড হুসাইনকে এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের বাইরে থেকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হন বলে ৫৫ বছর বয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী ড্যাভিড অর্টিজ জানান।
জরুরি চিকিৎসা কর্মীগণ আহত কন্যা ও মুমূর্ষু স্ত্রীকে দ্রুত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান/ কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ কন্যা মানহরের রক্তপাত বন্ধে সক্ষম হলেও মুমূর্ষু ফাতিমাকে বাঁচাতে সক্ষম হননি।
সামান্য জখমপ্রাপ্ত আক্রমণকারীকে কুইন্স হসপিটাল সেন্টারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং তার মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে আটক রাখা হয়েছে। তাকে বাদ বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হতে পারে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী ব্রাউন জানিয়েছেন। ব্রাউন আরও জানান যে অভিযুক্ত হুসাইনের বিরুদ্ধে অতীতেও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। পরিবারের সাথে পরিচিতজনরা জানান যে হুসাইন প্রায়শ স্ত্রী ফাতিমাকে মারধর করত। জনৈক প্রতিবেশী আরও জানান যে ডিসেম্বরেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়া-ঝাটি হয়েছিল। হুসাইন হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে গ্যাস স্টেশনে কাজ করত বলে জানা যায়। তারা প্রায় ৬/ ৭ বছর ধরে একই এপার্টমেন্টে বসবাস করে আসছিল। ২ জন অপ্রাপ্ত বয়স্কসহ তাদের ৪ সন্তান-সন্ততি রয়েছে বলে জানা যায়।