বাতিল হচ্ছে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব: ট্রাম্প

ঠিকানা অনলাইন : জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসে সম্প্রতি সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে গত বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ বাতিল করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

২১ আগস্ট, বুধবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অনাগরিক ও অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গুরুত্বসহকারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে দেখছি। কারণ এ সুযোগের কারণে আপনার একটি বাচ্চা আমাদের ভূমিতে জন্ম নিলে, আমাদের সীমান্ত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আপনার একটি সন্তান হলে তাকে অভিনন্দন জানাতে হয়। আর সেই শিশু এখন আমাদের নাগরিক হয়ে যায়। এটা সুস্পষ্টভাবেই একটি হাস্যকর ব্যাপার।’

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির যত মনোযোগ অভিবাসনের বিরুদ্ধে। তাঁর পুনর্নির্বাচনের প্রচারাভিযানের কেন্দ্রবিন্দুও হবে অভিবাসন ইস্যু। কিন্তু এটাও সত্য যে তাঁর বেশির ভাগ নির্বাহী আদেশই পরিবর্তিত হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এক্সিওসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম বাতিল করবেন। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘আমেরিকার নাগরিক নয়, এমন যে কেউ এসে সন্তান জন্ম দিলেই সেই সন্তান আমেরিকার নাগরিকত্ব দাবি করতে পারে। এই নিয়ম অত্যন্ত হাস্যকর, এটি বন্ধ হওয়া উচিত।’ তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গৃহযুদ্ধের অবসানের পর ১৮৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের নাগরিকত্ব অনুমোদন করা হয় এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যেকোনো ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর প্রথম বাক্যেই বলা আছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব ব্যক্তিই দেশটির নাগরিক হবে। সে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেখানেই বসবাস করুক, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।’

অভিবাসনবিরোধী কট্টরপন্থীরা বলছে, এই ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসনের জন্য ‘চুম্বক’ হিসেবে কাজ করে থাকে। সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য অবৈধ অভিবাসী গর্ভবতী নারীদের সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করে।

তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইন প্রণেতা ও আইন বিশেষজ্ঞরা আদালতে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারকও রয়েছেন, যাঁরা এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন।