জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হলেন নাঈমা খান

ঠিকানা রিপোর্ট: জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হয়েছেন কমিউনিটির জনপ্রিয় মুখ, খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপারসন নাঈমা খান। তিনি শিক্ষা প্রসারের জন্য এই দায়িত্ব পেয়েছেন। আগামী তিন বছরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা বিষয়ক একাধিক সেমিনার প্রচারাভিযানে অংশ নিবেন। তিনি এই ধরণের দায়িত্ব পাওয়ার কারণে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এই দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নাঈমা খান বলেন, এতে খুবই ভাল লাগছে। আমরা মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার প্রসার ও এর উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নাঈমা খান তার এ বিশেষ সম্মানের জন্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে মনে করেন, স্কুলগামী সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় নিষ্ঠার সাথে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সকল অভিভাবকের আস্থা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে এমন একটি বিরল দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি যেমন কাজ করার সুযোগ পাবেন তেমনি বাংলাদেশের মুখ আরো উজ্জ্বল হবে।
জানা গেছে, মানসম্মত শিক্ষা প্রদান ও শিক্ষার প্রসারের জন্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রের বিভন্ন উন্নয়নের জন্য কাজ করার জন্য তার দীর্ঘ দিনের ও তার প্রতিষ্ঠানের অবদানকে বিবেচনা করে নাঈমা খানকে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জাতিসংঘ।
গত ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘে ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব মিডিয়ার নির্বাহী পরিচালনা পরিষদের কো-চেয়ার আমিন ক্রুজ তার নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর গত ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়। নাঈমা খান এই নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিউজার্সি থেকে নির্বাচিত ইউএস সিনেটর বব বেমেন্ডেজ, নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলেট এবং নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের জজ কারমেন ভেরাজকুয়েজ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের গন্যমান্য কর্মকর্তাদের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তার নিয়োগ ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
জানা গেছে, এই নিয়োগ পাওয়ার দিন থেকে খানস টিউটোরিয়াল চেয়ারপারসন নাঈমা জাতিসংঘের হয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত অর্থ্যাৎ আগামী তিন বছর তিনি শিক্ষা প্রসারের বিভিন্ন কর্মসূচী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিবেন। এই কর্মসূচীর আওতায় তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের দূত হিসেবে বিভিন্ন দেশে সভা-সিম্পোজিয়াম-কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করবেন।
নাঈমা খানের এই শুভেচ্ছাদূত হওয়াকে কমিউিনিটির সবাই ইতিবচাক হিসাবে দেখছেন। কারণ তার এই সম্মান বাংলাদেশের মানুষের জন্য সম্মান। তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান নিইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ও এশিয়ান কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকের শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছেন। এই কাজের জন্য তিনি তার স্বামী ড. মনসুর খানের মাধ্যমেই সম্পৃক্ত হন। আজ মনুসর খান নেই। কিন্তু তিনি তার স্বপ্ন পূরনে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ছেলে ইভান খানও কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতিসংঘের ইউনাইটেড নেশন্স সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস’র এর গুডওইল এ্যাম্বাসেডর হিসাবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ করার খবরে খানস টিউটোরিয়ালে আনন্দ জোয়ারে ভাসছে। জাতিসংঘের ২০৩০ এজেন্ডা দ্য ইউএন সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস এর অন্তর্ভুক্ত কোয়ালিটি এডুকেশন প্রসার ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রচারনায় অংশ নিবেন।
জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্ডা রয়েছে। সেই সব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে আসছে। এই প্রকল্পের কাজের বাস্তবায়ন করছে ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব মিডিয়া এবং হিস্পানিক-আমেরিকান কংগ্রেস অব প্রেস।
নাঈমা খান ঢাকায় থাকাকালীন তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখানেও আসার পর ধরে রেখেছেন। তিনি ঢাকায় ও সোভিয়েট ইউনিয়নে লেখাপড়া করেন। সেখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে তিনি ঢাকায় ফিরে যান। যোগ দেন জাহাঙ্গীনর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে অল্প কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৯৮৫ সালে স্বামী ড. মনসুর খানের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন। তাদের পুত্র ইভান খানকেও ওই সময়ে সঙ্গে নিয়ে আসেন। ১৯৮৮ সাল থেকে নাঈমা খান সার্টিফাইড এলিমেন্টারি স্কুল শিক্ষক হিসাবে কাজ শুরু করেন। তিনি এখানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে তার স্বামী প্রতিষ্ঠা করেন খানস টিউটোরিয়াল। সঙ্গে ছিলেন নাঈমা খান। এই খানস টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠা করে তারা এখানে বাংলাদেশী ও এশিয়ান কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন। এখান স্পেশাইলাইজড হাইস্কুল গুলোতে বিভিন্ন স্টুডেন্ট সুযোগ পেতেও লেখাপড়ায় সহায়তা করছে। এই কারণে খানস টিউটোরিয়াল বিভিন্নভাবে কমিউনিটিতে প্রশংসা অর্জন করেছে।
নাঈমা খান তার কাজের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে তার কাজের জন্য সম্মানিত হয়েছেন এরমধ্যে রয়েছে ইউএস কংগ্রেস, নিউইয়র্ক স্টেট, নিউইয়র্ক সিটি, নাসাও কাউন্টি, ব্রঙ্কস বরো, ইউনেস্কো সম্মাননা ছাড়াও ড্যানি গ্রোভার পাওয়ার অব ড্রিমস এ্যাওয়ার্ড সহ বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন।
তার এই দায়িত্ব পাওয়ায় তার ছেলে খানস টিউটোরিয়ালের সিইও ড. ইভান খানও প্রচন্ড খুশী। তিনি এক প্রতিক্রিয়াতে বলেছেন, আমার বাবা (প্রয়াত ) ড. মনসুর খান ও মা নাঈমা খানের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল খানস টিউটোরিয়াল। এই টিউটোরিয়াল নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে যে সাফল্য লাভ করেছে ও সম্মান অর্জন করেছে তা প্রকৃতপক্ষে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বড় অর্জন। আমার মায়ের এই স্বীকৃতি এরই ধারাবাহিকতার একটি অবদান। তাঁকে জাতিসংঘ শুভেচ্ছা দূত নিযুক্ত করায় ও তিনি এই ধরণের সম্মান অর্জনকে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে ও বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখবে।
খান’স টিউটোরিয়ালের যাত্রা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এর প্রসার হয়েছে। বর্তমানে ১১টি স্থান থেকে এর কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশী ও এশিয়ার বিভিন্ন স্কুলে ছেলে মেয়েরা এখান থেকে উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের টিউটোরিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা নিচ্ছে। তারাও এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে সক্ষম হচ্ছে।
নাঈমা খান তার দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি জাতিসংঘে বক্তৃতা করেন। তিনি তার দায়িত্ব পালন করার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।