জাতিসংঘে ‘পেইন্টিং ফর হ্যাপিনেস প্রদর্শনী’

নিউইয়র্ক : জাতিসংঘের মূল ভবনে ‘আন্তর্জাতিক হ্যাপিনেস ডে’ উপলক্ষে ঝর্ণাকলা ফাউন্ডেশন ও শ্রীচিন্ময় সেন্টারের সহযোগিতায় জাতিসংঘে রাজতান্ত্রিক ভুটানের স্থায়ী প্রতিনিধির উদ্যোগে গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় ‘পেইন্টিং ফর হ্যাপিনেস’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতিসংঘে ভুটানের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি কর্ম সনম টোসারাম প্রারম্ভেই বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল গুটেরেস এ উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বাণী প্রেরণ করেন।

এতে শ্রীচিন্ময়ের আঁকা বিশাল ছবি প্রদর্শনী ছাড়াও শিশুরা অন্যদেশের শিশুদের জন্য আঁকা ছবির প্রদর্শনী ও ছবির বই প্রদর্শিত হয়।শিশুরাই পৃথিবীর ভবিষ্যত।তাই এক দেশের শিশুদের সাথে অন্যদেশের শিশুদের বন্ধুত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব শান্তি দূত শ্রীচিন্ময় এই ‘শিশু থেকে শিশুতে’ সেতুবন্ধনের লক্ষ্যে এই বৈশ্বিক কর্মসূচি চালু করেন।

ইতিপূর্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ভুটানের জাতীয় সুখ নীতির অনুপ্রেরণায় ২০১২ সালে প্রতিবছর ২০ মার্চকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হ্যাপিনেস ডে’হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।এই দিবসের মূল কথা হলো, সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলকথা হবে ‘সকল জনগণের জন্য সাম্যের নীতি দ্বারা দারিদ্র্যমুক্ত স্থায়ী উন্নয়ন, যেখানে সবাইর সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণচেতনা অন্তর্ভুক্ত’।

শিল্পীদের আঁকা ছবি যুগ যুগ ধরে ভিন্ন জাতি ধর্মের মানুষদেরও একই চেতনায় একাত্ম করেছে। বর্তমান সাংস্কৃতিক ও জাতিগত বৈচিত্রের যুগে মানুষে মানুষে যে ভিন্নতার অনুভূতি তা কাটিয়ে একাত্মতার অনুভূতি সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিশুরা তাদের ভাষা,সংস্কৃতি ও জাতিয়তার ভিন্নতা সত্ত্বেও অন্য জাতি ধর্মের শিশুদের সাথে মানসিকভাবে ভালবাসা ও একাত্মতা অনুভব করতে পারে।শত শত বছর ধরে আর্ট বা চিত্রকলা বিভিন্ন জাতি ধর্মের মানুষের কাছে যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে,যা বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতার বাধাকে অতিক্রম করে এবং শারীরিকভাবে ও ইমোশানালি একে অন্যকে বুঝতে সাহায্য করেছে।

শ্রী চিন্ময় সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কিডস টু কিডস’বা একদেশের শিশুদের সাথে অন্যদেশের শিশুদের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত প্রোজেক্ট ‘শিশু থেকে শিশুতে’ উদ্যোগের মাধ্যমে ভূটান ও জাপানের বিভিন্ন স্কুলের শিশুরা তাদের আঁকা ছবি পরস্পরের কাছে বিনিময় করেছে। এর মাধ্যমে তাদের ভাষাগত ও শারিরিক বাধা অতিক্রম করে পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছা ও ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঝর্ণাকলা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও চিত্রপ্রদর্শনীর কিউরেটর রঞ্জনা ঘোষ বলেন, বসন্ত ঋতুর আজ প্রথম দিনে নিউইয়র্কের এই শুভ সন্ধ্যায় সুখের জন্য প্রত্যাশা খুবই প্রাসঙ্গিক যা আজ সমগ্র বিশ্বের জন্যই প্রয়োজন।এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ধরনের চিত্রাঙ্কনের মিশ্রন রয়েছে।শিশুদের আঁকা হাজার হাজার ছবির মধ্যে মাত্র কয়েকশত ছবি বাঁধাই করে প্রদর্শনীর শেলফে রাখা হয়েছে। রয়েছে শ্রী চিন্ময়ের আঁকা বিশাল ক্যানভাসের ছবি,যার প্রতিটির রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন শিরোনাম।চিত্রকলার মাধ্যমে শিল্পী যেন আমাদের উচ্চতর,গভীরতর কোন স্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। আমরা যেন আমাদের শুভকামনার মানসিকতা অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারি। আমরা যখন আরো মানবিক গুনের অধিকারি হয়ে উঠি, আমাদের সুখের অনুভূতি তখন আরো বেড়ে যায়।

এখানে রয়েছে হ্যাপিনেস বা সুখানুভুতি, সমবেদনা,সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা,করুণা, মেডিটেশান,পৃথিবী,মা প্রকৃতি, স্বপ্ন,বিশ্বপ্রীতি বা বিশ্ব ঐকতান ইত্যাদি বিভিন্ন শিরোনামের ছবি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।